রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫
রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে আপনি জানতে চাচ্ছেন। তাহলে অনলাইনে আর বেশি খোঁজাখুঁজি না করে আমার এই পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটু সময় নিয়ে দেখবেন। আশাকরি আপনার জানার ইচ্ছাটা পূরণ হয়ে যাবে।
এই পোস্টে আমি চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার রমজান মাসের প্রত্যেকটি দিনের সেহরি ও ইফতারের সময় জানানোর। এখানে উল্লেখিত সময়গুলো রাজশাহী বিভাগের জেলাভিত্তিক দেওয়া হয়েছে, যা আপনার জেলায় সেহরি ও ইফতার করার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।
এই পোস্টে যা যা থাকছেঃ রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫
- রাজশাহী জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- বগুড়া জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য ৬টি জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার রমজান মাসের তাৎপর্য
- রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার পরিচিতি
- রাজশাহী বিভাগে রমজান মাসের সেহরি করার গুরুত্ব
- রাজশাহী বিভাগে রমজান মাসের ইফতার করার গুরুত্ব
- রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য
রাজশাহী জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
রাজশাহী জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনার প্রয়োজন হলে জেনে নিতে পারবেন। রাজশাহীকে মূলত শিক্ষার নগরী বলা হয়। এখানকার মানুষ অন্যান্য জেলার তুলনায় খুব শান্তিপ্রিয়। এই অঞ্চলের মানুষ সেহরি ও ইফতার সময় তাদের সুস্বাদু ফল আম, জাম, লিচু ইত্যাদির ব্যবহার করে থাকে।
এখানে সেহরীর সময় আপনি ভাত, ডাল, সবজি, গরু বা খাসির মাংস, দই, পায়েস ইত্যাদি পাবেন। ইফতারের সময় খেজুর, ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ ইত্যাদি পাবেন। তবে আপনি যদি ফলের মৌসুমে সেখানে যেয়ে থাকেন তাহলে সেখানে বিভিন্ন রকমের ফল যেমন আম, জাম, লিচু ইত্যাদির মাধ্যমে ইফতার করতে পারবেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক জিলাটির সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে-
বগুড়া জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
বগুড়া জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যদি আপনি সেখানে অবস্থান করেন। এই জেলার মানুষেরা সাধারণত সেহরির সময় ভাত, রুটি, ডাল, সবজি, দুধ ও বিখ্যাত বগুড়ার দই খেয়ে থাকেন। আপনার যদি ভারী খাবারে সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে চিড়া, দুধ, ও ফলমূল দিয়ে সেহরি করতে পারেন।
অন্যান্য জেলার মতো এই জেলাতো আপনি ইফতার করার ক্ষেত্রে খেজুর, শরবত, ছোলা,
পেঁয়াজু, বেগুনি, মুড়ি, হালিম, জিলাপি ইত্যাদি পাবেন। তবে এখানকার মানুষের
সবচেয়ে বেশি পছন্দের খাবার হচ্ছে বগুড়ার দই। এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক বগুড়া
জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে-
রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য ৬টি জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
অন্যান্য ৬টি জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে যদি আপনি রমজান মাসে রাজশাহী বিভাগের মধ্যে অবস্থান করেন। যেহেতু এই মাসটি রোজা রাখার মাস সেহেতু আপনার রোজা রাখা এবং ইফতার করার ক্ষেত্রে যেখানে অবস্থান করছেন সেখানকার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে। আসুন রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য ছয় জেলার সেহরি ও ইফতার সময়সূচি সম্পর্কে জেনে নেই-
ক্রমিক নং | জেলা | সেহরির সময় | ইফতারের সময় |
---|---|---|---|
১ | নাটোর | ঢাকার সময় + ৫ মিঃ | ঢাকার সময় + ৬ মিঃ |
২ | জয়পুরহাট | ঢাকার সময় + ৪ মিঃ | ঢাকার সময় + ৬ মিঃ |
৩ | চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ঢাকার সময় + ৮ মিঃ | ঢাকার সময় + ৯ মিঃ |
৪ | পাবনা | ঢাকার সময় + ৫ মিঃ | ঢাকার সময় + ৫ মিঃ |
৫ | নওগাঁ | ঢাকার সময় + ৫ মিঃ | ঢাকার সময় + ৬ মিঃ |
৬ | সিরাজগঞ্জ | ঢাকার সময় + ২ মিঃ | ঢাকার সময় + ২ মিঃ |
রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার রমজান মাসের তাৎপর্য
রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার রমজান মাসের তাৎপর্য সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলমানকে জানা আবশ্যক।রোজা মুসলমানদের জন্য এমন একটি আমল যেখানে লোকদেখানো কোন কিছু থাকে না। এটি বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার অতি গোপন একটি বিষয়। ফলে রোজা রাখার মাধ্যমে আপনার এখলাস, আন্তরিকতা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের সর্বোত্তম মাধ্যম।
এজন্যই আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, “বান্দা রোজা যেহেতু শুধুই আমার জন্য
রেখেছে, সেহেতু রোজার প্রতিদান আমি নিজ হাতে বান্দাকে দিব”। রমজান মাসে রোজা যে
শুধু পানাহার এবং সহবাস থেকে বিরত থাকা তা নয়, আপনাকে অন্যান্য
সকল কর্মকান্ডে সংযমের পরিচয় দিতে হবে। পাপাচার, মিথ্যা ও অন্যান্য হারাম
বিষয়কে পরিহার করতে হবে। এই মাসে আরও তাৎপর্য রয়েছে আসুন এখন সেগুলো সম্পর্কে
জেনে নেওয়া যাক-
- এই মাসেই মুসলমানদের সর্বোচ্চ কিতাব কোরআন শরীফ নাযিল হয়েছে।
- রমজান মাসের ৩০ দিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ১০দিন রহমত, দ্বিতীয় ১০দিন মাগফিরাত এবং তৃতীয় ১০দিন নাজাত।
- রমজান মাসে রোজা সর্বোত্তম ইবাদত, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিকটবর্তী হওয়া সম্ভব।
-
আল্লাহ তাআলা রমজান মাসের রোজার মাধ্যমে বান্দার সকল পাপসমূহকে মাফ করে দেন।
-
রমজান মাসে প্রতিদিন ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহূর্তের সময়টি একটি বিশেষ সময়, যখন
রোজদাররা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করলে সেই প্রার্থনা সরাসরি কবুল
করবেন।
-
এই মাসটি বিশেষ সোয়াব এবং নেকি নিয়ে নেওয়ার একটি মাস। এই মাসে ১টি ফরজ
আদায় করলে ৭০টি ফরজ আদায় করার মতো সোয়াব পাওয়া যায় এবং ১টি নফল আদায় করলে
১টি ফরজ আদায় করার সমান সোয়াব পাওয়া যায়। এছাড়াও এই মাসে পবিত্র শবে-কদরের
একটি রাত্রি রয়েছে, যে রাত্রে আপনি ইবাদত করলে ১০০০ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি
সোয়াব অর্জন করতে পারেবেন।
-
এই মাসে আল্লাহ তাআলা জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেন এবং জাহান্নামের সকল দরজা
বন্ধ করে দেন।
- এই মাসে তিনি বড় শয়তান এবং খারাপ জ্বীনদের বন্দি করে রাখেন, যেন তারা তার বান্দাদের ধোকা দিয়ে বিপথে নিয়ে যেতে না পারে।
রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার পরিচিতি
রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার পরিচিতি তুলে ধরতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় এটি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ হিসেবে পরিচিত। এই বিভাগের উত্তরে রংপুর বিভাগ, পূর্বের ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগ, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং দক্ষিণে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ অবস্থিত। এই বিভাগের ভিতর দিয়ে পদ্মা, যমুনা ও ছোট বড় অনেক নদী বয়ে গিয়েছে।
এই বিভাগে মোট ৮টি জেলা রয়েছে, যেখানে কৃষি, আম, লিচু ইত্যাদি চাষ হয়ে
থাকে। রাজশাহী জেলা এই বিভাগের কেন্দ্রস্থল, যা আমের রাজ্য
হিসেবে পরিচিত। নাটোর জেলাটি বিভাগের পূর্ব দিকে অবস্থিত,
যা কাঁচাগোল্লার জন্য
বিখ্যাত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাটির বিভাগের উত্তর-পশ্চিমে
অবস্থিত, যা মূলত আমের জন্য বিখ্যাত।
বগুড়া জেলাটি বিভাগের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত, যা মূলত
উত্তরবঙ্গে প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। বগুড়ার দই এখানকার
বিখ্যাত। জয়পুরহাট জেলাটি বিভাগের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত,
যা খাদি শিল্প ও পাথর খনির জন্য পরিচিত। নওগাঁ জেলাটি বিভাগের
দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত, যা চাল উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত।
সিরাজগঞ্জ জেলাটি যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত, যা দেশের
অন্যতম তাঁতশিল্প অঞ্চল হিসেবে বিখ্যাত। পাবনা জেলাটি
বিভাগের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত, যা মানসিক ভারসাম্য রোগের চিকিৎসা এবং রূপপুর
পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পরিচিত।
রাজশাহী বিভাগে রমজান মাসের সেহরি খাওয়ার গুরুত্ব
রাজশাহী বিভাগে রমজান মাসের সেহরি খাওয়ার গুরুত্ব অনেক রয়েছে। সেহরি মানেই রাতে শেষভাগে পরের দিন রোজা রাখার উদ্দেশ্যে খাওয়া। সাধারণত প্রত্যেক মুসলমানকে দেরি করে অর্থাৎ ঠিক সুবহে সাদিকের পূর্বে সেহরি খাওয়া সুন্নত। আমাদের নবী রাসূল (সাঃ) সাধারণত দেরি করে সেহরি করতেন। এর পিছনে দুইটি কারণ রয়েছে।
প্রথমটি হচ্ছে রোজা রাখতে সহজ হয়, দ্বিতীয়টি হচ্ছে একই সাথে সেহরি খাওয়ার সাথে সাথে আপনি ফজরের নামাজ আদায় করতে পারবেন। যদি আপনি ফজরের ওয়াক্তের অনেক আগে সেহরি করে থাকেন তাহলে আপনাকে নামাজ আদায়ের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। আপনি যদি সতর্কতা অবলম্বন করে অনেক আগে সেহরি করে নেন তাহলে আপনার জন্যই রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে।
রাজশাহী বিভাগে রমজান মাসের ইফতার করার গুরুত্ব
রাজশাহী বিভাগে রমজান মাসের ইফতার করার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত কাজ। আপনি সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীর ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই সময় মত ইফতার করা শরীরের জন্য খুবই উপকারী এবং গুরুত্বপূর্ণ। হাদিস আছে, “মানুষ তখন পর্যন্ত কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতক্ষণ তারা ইফতারে তাড়াহুড়া করবে।” ইফতার শুধু যে আপনার শরীরের সুস্থতা এনে দিবে তা নয়, আপনার মনের শান্তিও এনে দিবে।
রোজা রাখার মাধ্যমে যেমন আপনি ধৈর্য এবং সংযমের শিক্ষা গ্রহণ করবেন, তেমন ইফতার সেই ধৈর্যের ফলস্বরূপ একটি আনন্দঘন মুহূর্ত হিসেবে আপনার সামনে হাজির হবে। এছাড়াও ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দোয়া কবুল করেন এবং মাফ করেন। সেজন্য আপনিও ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন। আল্লাহতায়ালার কাছে ইফতারের পূর্বের সময়টা খুবই পছন্দের নিয়ে একটি সময়। সে সময় আল্লাহ তার রোজাদার বান্দাদের প্রার্থনাকে কখনোই ফিরিয়ে দেন না।
রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য
রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার রমজান মাসের সময়সূচি সম্পর্কে আমি একটি কথাই বলতে চাই, আপনি রাজশাহী বিভাগের যে জেলাতেই বসবাস করেন না কেন আমার এই পোস্টটির মাধ্যমে আপনি যদি সেহরি ও ইফতার করে থাকেন তাহলে তা সঠিক সময় হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এই পোস্টে আপনারা রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন ভৌগলিক দিক সম্পর্কে জেনেছেন।
এই পোষ্টের মাধ্যমে আমি চেষ্টা করেছি রাজশাহী বিভাগের সকল জেলাগুলোর ২০২৫ সালের রমজান মাসের সময়সূচি দেওয়ার। আশা করি এই পোস্টটি আপনার ২০২৫ সালে রোজা রাখতে সাহায্য ও সহযোগিতা করবে। এই পোস্টটি আপনাদের যদি সেহরি ও ইফতার করতে কাজে লাগে তাহলে আমি মনে করব আমার পোস্টটি স্বার্থক। আজ এই পর্যন্তই ভবিষ্যতে এই পোস্টের কোন আপডেট অথবা নতুন কোন পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব।
সে পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন। সময়সূচি মেনে রমজান মাসের সেহরি ও ইফতার করবেন। ধন্যবাদ সবাইকে..........
অজানা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url