OrdinaryITPostAd

বরিশাল বিভাগের ৭টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫

 

বরিশাল বিভাগের ৭টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে আপনি জানতে চাচ্ছেন। তাহলে অনলাইনে আর বেশি খোঁজাখুঁজি না করে আমার এই পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটু সময় নিয়ে দেখবেন। আশাকরি আপনার জানার ইচ্ছাটা পূরণ হয়ে যাবে।

ছবি-১

এই পোস্টে আমি চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার রমজান মাসের প্রত্যেকটি দিনের সেহরি ও  ইফতারের সময় জানানোর। এখানে উল্লেখিত সময়গুলো বরিশাল বিভাগের জেলাভিত্তিক দেওয়া হয়েছে, যা আপনার জেলায় সেহরি ও ইফতার করার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।

এই পোস্টে যা যা থাকছেঃ বরিশাল বিভাগের ৭টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫

বরিশাল জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি

বরিশাল জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যদি আপনি রমজান মাসে রোজা অবস্থায় সেই জেলাতে অবস্থান করেন। অন্যান্য জেলার মত এই জেলাতেও মানুষেরা সেহরিতে ভাত, মাছ, মাংস, ডাল, শাক-সবজি ইত্যাদি খাবার খেয়ে থাকে, তবে এই জেলাটি যেহেতু নদীবাহিত একটি জেলা সেহেতু আপনি লক্ষ্য করবেন এখানকার মানুষ চিংড়ি মাছ এবং ইলিশ মাছের তরকারি দ্বারা সেহরি করতে পছন্দ করে। এর পাশাপাশি দুধ, মুড়ি, খেজুর ও শরবতও অনেকের খাদ্য তালিকায় থাকে।

ইফতারে এই জেলার মানুষেরা অন্য জেলার মত খেজুর, শরবত, মুড়ি, ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি ইত্যাদি খেয়ে থাকেন, তবে এখানকার স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে ইলিশ মাছের চপ, নারিকেলের পিঠা, গরম জিলাপি ও নলেন গুঁড়ের সন্দেশ ইত্যাদি খেয়ে থাকেন। এখানকার মানুষ পারিবারিকভাবে ও সামাজিকভাবে একত্র হয়ে ইফতার করতে পছন্দ করে। আসুন জেনে নেওয়া যায় বরিশাল জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে-

ছবি-২

বরিশাল বিভাগের অন্যান্য ৬টি জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি

বরিশাল বিভাগের অন্যান্য ৬টি জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে যদি আপনি রমজান মাসে বরিশাল বিভাগে অবস্থান করেন। যেহেতু এই মাসটি রোজা রাখার মাস সেহেতু আপনার রোজা রাখা এবং ইফতার করার ক্ষেত্রে যেখানে অবস্থান করছেন সেখানকার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে। আসুন বরিশাল বিভাগের অন্যান্য ৬টি জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে জেনে নেই-

ক্রমিক নং জেলা সেহরির সময় ইফতারের সময়
পটুয়াখালী ঢাকার সময় + ২ মিঃ ঢাকার সাথে
ঝালকাঠি ঢাকার সময় + ২ মিঃ ঢাকার সাথে
ভোলা ঢাকার সাথে ঢাকার সময় - ২ মিঃ
পিরোজপুর ঢাকার সময় + ৩ মিঃ ঢাকার সময় - ১ মিঃ
বরগুনা ঢাকার সময় + ৩ মিঃ ঢাকার সাথে
ফরিদপুর ঢাকার সময় + ২ মিঃ ঢাকার সময় + ২ মিঃ

বরিশাল বিভাগের ৭টি জেলার রমজান মাসের তাৎপর্য

বরিশাল বিভাগের ৭টি জেলার রমজান মাসের তাৎপর্য সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলমানকে জানা আবশ্যক।রোজা মুসলমানদের জন্য এমন একটি আমল যেখানে লোকদেখানো কোন কিছু থাকে না। এটি বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার অতি গোপন একটি বিষয়। ফলে রোজা রাখার মাধ্যমে আপনার এখলাস, আন্তরিকতা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের সর্বোত্তম মাধ্যম।

এজন্যই আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, “বান্দা রোজা যেহেতু শুধুই আমার জন্য রেখেছে, সেহেতু রোজার প্রতিদান আমি নিজ হাতে বান্দাকে দিব”। রমজান মাসে রোজা যে শুধু পানাহার এবং সহবাস থেকে বিরত থাকা তা নয়, আপনাকে অন্যান্য সকল কর্মকান্ডে সংযমের পরিচয় দিতে হবে। পাপাচার, মিথ্যা ও অন্যান্য হারাম বিষয়কে পরিহার করতে হবে। এই মাসে আরও তাৎপর্য রয়েছে আসুন এখন সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

  • এই মাসেই মুসলমানদের সর্বোচ্চ কিতাব কোরআন শরীফ নাযিল হয়েছে।
  • রমজান মাসের ৩০ দিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ১০দিন রহমত, দ্বিতীয় ১০দিন মাগফিরাত এবং তৃতীয় ১০দিন নাজাত।
  • রমজান মাসে রোজা সর্বোত্তম ইবাদত, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিকটবর্তী হওয়া সম্ভব।
  • আল্লাহ তাআলা রমজান মাসের রোজার মাধ্যমে বান্দার সকল পাপসমূহকে মাফ করে দেন।
  • রমজান মাসে প্রতিদিন ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহূর্তের সময়টি একটি বিশেষ সময়, যখন রোজদাররা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করলে সেই প্রার্থনা সরাসরি কবুল করবেন।
  • এই মাসটি বিশেষ সোয়াব এবং নেকি নিয়ে নেওয়ার একটি মাস। এই মাসে ১টি ফরজ আদায় করলে ৭০টি ফরজ আদায় করার মতো সোয়াব পাওয়া যায় এবং ১টি নফল আদায় করলে ১টি ফরজ আদায় করার সমান সোয়াব পাওয়া যায়। এছাড়াও এই মাসে পবিত্র শবে-কদরের একটি রাত্রি রয়েছে, যে রাত্রে আপনি ইবাদত করলে ১০০০ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি সোয়াব অর্জন করতে পারেবেন।
  • এই মাসে আল্লাহ তাআলা জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেন এবং জাহান্নামের সকল দরজা বন্ধ করে দেন।
  • এই মাসে তিনি বড় শয়তান এবং খারাপ জ্বীনদের বন্দি করে রাখেন, যেন তারা তার বান্দাদের ধোকা দিয়ে বিপথে নিয়ে যেতে না পারে।

বরিশাল বিভাগের ৭টি জেলার পরিচিতি

বরিশাল বিভাগের ৭টি জেলার পরিচিতি সম্পর্কে প্রথমেই বলতে হয় এই বিভাগটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত, যা নদীবাহিত একটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই বিভাগটির উত্তরে ঢাকা ও খুলনা বিভাগ, পশ্চিমে খুলনা বিভাগ, পূর্বে চট্টগ্রাম বিভাগ এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এই বিভাগে মোট ৭টি জেলা রয়েছে, যেগুলো কৃষি, নদীপথ ও মৎস্যচাষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বরিশাল জেলাটি এই বিভাগের প্রধান শহর, যা নদীবন্দর এবং শস্য উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত।পটুয়াখালী জেলাটি দেশের অন্যতম উপকূলীয় অঞ্চল, যা সুন্দরবনের কিছু অংশ ও কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জন্য পরিচিত। ভোলা জেলাটি দেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা, যেখানে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মিলন হয়েছে।

পিরোজপুর সুন্দরবনের কাছাকাছি অবস্থিত, যা সুপারি ও বিভিন্ন প্রকার গাছ-গাছালির জন্য পরিচিত।বরগুনা জেলাটি বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত, যা উপকূলীয় মৎস্য শিকার এবং লবণ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। ঝালকাঠি জেলাটি ঐতিহ্যবাহী চাষাবাদ, শীতকালীন শাকসবজি ও কাঠের শিল্পের জন্য বিখ্যাত। ফরিদপুর জেলাটি পূর্বে ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত ছিল। এই জেলাটি সাধারণত পাট চাষের  জন্য বিখ্যাত।

বরিশাল বিভাগের রমজান মাসের সেহরি খাওয়ার গুরুত্ব

বরিশাল বিভাগের রমজান মাসের সেহরি খাওয়ার গুরুত্ব অনেক রয়েছে। সেহরি মানেই রাতে শেষভাগে পরের দিন রোজা রাখার উদ্দেশ্যে খাওয়া। সাধারণত প্রত্যেক মুসলমানকে দেরি করে অর্থাৎ ঠিক সুবহে সাদিকের পূর্বে সেহরি খাওয়া সুন্নত। আমাদের নবী রাসূল (সাঃ) সাধারণত দেরি করে সেহরি করতেন। এর পিছনে দুইটি কারণ রয়েছে।

প্রথমটি হচ্ছে রোজা রাখতে সহজ হয়, দ্বিতীয়টি হচ্ছে একই সাথে সেহরি খাওয়ার সাথে সাথে আপনি ফজরের নামাজ আদায় করতে পারবেন। যদি আপনি ফজরের ওয়াক্তের অনেক আগে সেহরি করে থাকেন তাহলে আপনাকে নামাজ আদায়ের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। আপনি যদি সতর্কতা অবলম্বন করে অনেক আগে সেহরি করে নেন তাহলে আপনার জন্যই রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে।

বরিশাল বিভাগের রমজান মাসের ইফতার করার গুরুত্ব

বরিশাল বিভাগের রমজান মাসের ইফতার করার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত কাজ। আপনি সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীর ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই সময় মত ইফতার করা শরীরের জন্য খুবই উপকারী এবং গুরুত্বপূর্ণ। হাদিস আছে, “মানুষ তখন পর্যন্ত কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতক্ষণ তারা ইফতারে তাড়াহুড়া করবে।” ইফতার শুধু যে আপনার শরীরের সুস্থতা এনে দিবে তা নয়, আপনার মনের শান্তিও এনে দিবে।

রোজা রাখার মাধ্যমে যেমন আপনি ধৈর্য এবং সংযমের শিক্ষা গ্রহণ করবেন, তেমন ইফতার সেই ধৈর্যের ফলস্বরূপ একটি আনন্দঘন মুহূর্ত হিসেবে আপনার সামনে হাজির হবে। এছাড়াও ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দোয়া কবুল করেন এবং মাফ করেন। সেজন্য আপনিও ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন। আল্লাহতায়ালার কাছে ইফতারের পূর্বের সময়টা খুবই পছন্দের নিয়ে একটি সময়। সে সময় আল্লাহ তার রোজাদার বান্দাদের প্রার্থনাকে কখনোই ফিরিয়ে দেন না।

বরিশাল বিভাগের ৭টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য

বরিশাল বিভাগের ৭টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে আমি একটি কথাই বলতে চাই, এই বিভাগের জেলাগুলার মধ্যে সময়ের পার্থক্য খুব বেশি চোখে পড়ে না। তাই আপনারা যখন রোজা রাখবেন তখন সেই জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক অনুমোদিত সেহরি ও ইফতার সময়সূচি মেনে সেহরি ও ইফতার করবেন।

ছবি-৩

বাংলাদেশের সকলে যেহেতু ইসলামী ফাউন্ডেশনের বেদে দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী সেহরি ও ইফতার করে থাকে সেজন্য আপনিও সেই সময় অনুযায়ী সেহরি ও ইফতার করবেন। এই পোস্টে আমি চেষ্টা করেছি ইসলামী ফাউন্ডেশন কর্তৃক অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের বরিশাল জেলার সেহরি ও ইফতার সময়সূচি তৈরি করার।

আশা করি আপনারা আমার এই পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সময় নিয়ে পড়েছেন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক অনুমোদিত সময়সূচি মেনে সেহরি ও ইফতার করছেন। আমার এই পোস্টটি আপনাদের যদি কাজে লাগে তাহলে আমি মনে করব আমার পোস্ট লেখা স্বার্থক। আজ এই পর্যন্তই, ভবিষ্যতে এই পোস্টের কোন আপডেট অথবা নতুন কোন পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব।


সে পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন। সঠিক সময়সূচি মেনে সেহরি ও ইফতার করবেন। ধন্যবাদ সবাইকে.......

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অজানা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url