রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫
রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে আপনি জানতে চাচ্ছেন। তাহলে অনলাইনে আর বেশি খোঁজাখুঁজি না করে আমার এই পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটু সময় নিয়ে দেখবেন। আশাকরি আপনার জানার ইচ্ছাটা পূরণ হয়ে যাবে।
এই পোস্টে আমি চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার রমজান মাসের প্রত্যেকটি দিনের সেহরি ও ইফতারের সময় জানানোর। এখানে উল্লেখিত সময়গুলো রংপুর বিভাগের জেলাভিত্তিক দেওয়া হয়েছে, যা আপনার জেলায় সেহরি ও ইফতার করার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।
এই পোস্টে যা যা থাকছেঃ রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫
- রংপুর জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- গাইবান্ধা জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- কুড়িগ্রাম জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- লালমনিরহাট জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- নীলফামারী জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- দিনাজপুর জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- ঠাকুরগাঁও জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- পঞ্চগড় জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- রংপুর বিভাগের সকল জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- রংপুর বিভাগের ৮ টি জেলার রমজান মাসের তাৎপর্য
- রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার পরিচিতি
- রংপুর বিভাগে রমজান মাসের সেহরি খাওয়ার গুরুত্ব
- রংপুর বিভাগে রমজান মাসের ইফতার করার গুরুত্ব
- রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য।
রংপুর জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
রংপুর জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যদি আপনি রমজান মাসে রোজা অবস্থায় সেই জেলাতে অবস্থান করেন। অন্যান্য জেলার মত এই জেলাতেও মানুষেরা সেহরিতে ভাত, মাছ, মাংস, ডাল, শাক-সবজি, দুধ চিনি ইত্যাদি খাবার খেয়ে থাকে, তবে উপকূলীয় এলাকার মানুষেরা অনেকেই সেহরিতে ইলিশ, চিংড়ি বা অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ খেয়ে থাকেন।
ইফতারে এই জেলার মানুষেরা অন্য জেলার মত খেজুর, শরবত, মুড়ি, ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি ইত্যাদি খেয়ে থাকেন, তবে এখানকার স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে চিংড়ির চপ, সাদা জিলাপি, নলেন গুঁড়ের পায়েস ইত্যাদি খেয়ে থাকেন। এছাড়া আপনি যদি উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করেন তাহলে সেখানকার সামুদ্রিক মাছ ইফতারের মেনু করতে পারেন। আসুন জেনে নেওয়া যায় রংপুর জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে-

গাইবান্ধা জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
গাইবান্ধা জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যদি আপনি রমজান মাসে রোজা অবস্থায় সেই জেলাতে অবস্থান করেন। অন্যান্য জেলার মতো এই জেলাতেও সেহরিতে ভাত, ডাল, আলু ভর্তা, মাছ ও মাংস মাংস খেয়ে থাকেন। তবে এই অঞ্চলে গরুর মাংস, দেশি মুরগি এবং শুটকি মাছ সেহরিতে বেশ জনপ্রিয় খাবার। এখানেও অন্যান্য জেলার মতো বিভিন্ন ভাজাপোড়া, শরবত এবং ফলমূল পাবেন।
তবে এখানকার ইফতারের মেনুর মধ্যে আলুর চপ, মসুরের ডালের বড়া, গাজরের হালুয়া এবং গুড়ের শরবত অন্যতম। এই জেলার সেহরির শেষ সময় ঢাকা সময় থেকে ১ মিনিট পরে এবং ইফতারের সময় শুরু হয় ঢাকা সময় থেকে ৩ মিনিট পরে। এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক, গাইবন্ধা জেলাতে অবস্থানকালে আপনার সেহরি ও ইফতার সময়সূচি কিরকম হবে তা সম্পর্কে-
কুড়িগ্রাম জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
কুড়িগ্রাম জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যদি আপনি রমজান মাসে রোজা অবস্থায় সেই জেলাতে অবস্থান করেন। অন্যান্য জেলার মতো এই জেলাতেও সেহরিতে ভাত, ডাল, আলু ভর্তা, মাছ ও মাংস খেয়ে থাকেন। তবে এই জেলাটি যেহেতু চাষাবাদনির্ভর একটি জেলা সেহেতু এখানকার বেশিরভাগ মানুষ শাকসবজি, আলু ভর্তা, বুট ভাজা এবং দুধ-চিড়া কে পছন্দ করেন। এছাড়াও গরম দুধ, চা এবং দেশী গুড়ের শরবত অনেকের সেহেরির খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
ইফতারের সময় অন্যান্য জেলার মতো কুড়িগ্রামেও বিভিন্ন ধরনের ভাজাপোড়া, শরবত এবং ফলমূল পাবেন। যেহেতু এই অঞ্চলে নদ-নদী বেশি সেহেতু এখানকার মানুষ অনেক সময় ইফতারের ছোট মাছ দিয়ে বিশেষ ধরনের তরকারি তৈরি করে ইফতারে খেতে পছন্দ করেন। এই জেলার সেহরির শেষ সময় ঢাকা সময় থেকে ১ মিনিট পরে এবং ইফতারের সময় শুরু হয় ঢাকা সময় থেকে ৪ মিনিট পরে। এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক, কুড়িগ্রাম জেলাতে অবস্থানকালে আপনার সেহরি ও ইফতার সময়সূচি কিরকম হবে তা সম্পর্কে-
লালমনিরহাট জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
লালমনিরহাট জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যদি আপনি রমজান মাসে রোজা অবস্থায় সেই জেলাতে অবস্থান করেন। অন্যান্য জেলার মতো এই জেলাতেও সেহরিতে ভাত, ডাল, আলু ভর্তা, মাছ ও মাংস খেয়ে থাকেন। তবে এই জেলাটি যেহেতু তীব্র শীতপ্রবণ জেলা সেহেতু রমজান মাস যদি শীতকলে হয় তাহলে অনেকে গরম চা ও খেজুর গুড়ের শরবত দিয়ে সেহরি করে থাকেন।
ইফতারের সময় অন্যান্য জেলার মতো লালমনিরহাটেও বিভিন্ন ধরনের ভাজাপোড়া, শরবত এবং বিভিন্ন ধরনের ফলমূল পাবেন। এই জেলার বিশেষ ইফতার মধ্যে রয়েছে আলুর চপ, ডালের বড়া, গাজরের হালুয়া ও স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত গুড়ের পায়েস অন্যতম। এই জেলার সেহরির শেষ সময় ঢাকা সময় থেকে ২ মিনিট পরে এবং ইফতারের সময় শুরু হয় ঢাকা সময় থেকে ৫ মিনিট পরে। এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক, লালমনিরহাট জেলাতে অবস্থানকালে আপনার সেহরি ও ইফতার সময়সূচি কিরকম হবে তা সম্পর্কে-
নীলফামারী জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
নীলফামারী জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যদি আপনি রমজান মাসে রোজা অবস্থায় সেই জেলাতে অবস্থান করেন। অন্যান্য জেলার মতো এই জেলাতেও সেহরিতে ভাত, ডাল, আলু ভর্তা, মাছ ও মাংস খেয়ে থাকেন। তবে শীতপ্রবণ জেলা হওয়ায় অনেকেই দুধ-চিড়া, গুড় ও খেজুর খেয়ে থাকেন। এছাড়াও অনেকে গরম চা ও খেজুর গুড়ের শরবত দিয়ে সেহরি করে থাকেন।
ইফতারের সময় অন্যান্য জেলার মতো নীলফামারীতেও বিভিন্ন ধরনের ভাজাপোড়া, শরবত এবং বিভিন্ন ধরনের ফলমূল পাবেন। এই জেলার বিশেষ ইফতার মধ্যে রয়েছে আলুর চপ, ডালের বড়া, গাজরের হালুয়া ও স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত পিঠা অন্যতম। এই জেলার সেহরির শেষ সময় ঢাকা সময় থেকে ৪ মিনিট পরে এবং ইফতারের সময় শুরু হয় ঢাকা সময় থেকে ৭ মিনিট পরে। এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক, নীলফামারী জেলাতে অবস্থানকালে আপনার সেহরি ও ইফতার সময়সূচি কিরকম হবে তা সম্পর্কে-
দিনাজপুর জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
দিনাজপুর জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যদি আপনি রমজান মাসে রোজা অবস্থায় সেই জেলাতে অবস্থান করেন। অন্যান্য জেলার মতো এই জেলাতেও সেহরিতে ভাত, ডাল, আলু ভর্তা, শুঁটকি মাছ ও মাংস খেয়ে থাকেন। তবে শীতপ্রবণ জেলা হওয়ায় অনেকেই সেহরির সময় দুধ-চা খেতে পছন্দ করেন।
ইফতারের সময় অন্যান্য জেলার মতো দিনাজপুরেও বিভিন্ন ধরনের ভাজাপোড়া, শরবত এবং বিভিন্ন ধরনের ফলমূল পাবেন। এই জেলার বিশেষ ইফতার মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত কাটারীভোগ চালের খিচুড়ি, আলুর চপ, ডালের বড়া, ও স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত পিঠা অন্যতম। এই জেলার অনেকেই ইফতারে মিষ্টিজাতীয় খাবার যেমন দই, রসগোল্লা ও ছানার সন্দেশ রাখতে পছন্দ করেন।
এই জেলার সেহরির শেষ সময় ঢাকা সময় থেকে ৫ মিনিট পরে এবং ইফতারের সময় শুরু হয় ঢাকা সময় থেকে ৭ মিনিট পরে। এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক, দিনাজপুর জেলাতে অবস্থানকালে আপনার সেহরি ও ইফতার সময়সূচি কিরকম হবে তা সম্পর্কে-
ঠাকুরগাঁও জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
ঠাকুরগাঁও জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যদি আপনি রমজান মাসে রোজা অবস্থায় সেই জেলাতে অবস্থান করেন। অন্যান্য জেলার মতো এই জেলাতেও সেহরিতে ভাত, ডাল, শাক-সবজি, আলু ভর্তা, শুটটি ভর্তা, মাছ ও মাংস খেয়ে থাকেন। তবে শীতপ্রবণ জেলা হওয়ায় অনেকেই সেহরির সময় গরম দুধ-চা খেতে পছন্দ করেন।
ইফতারের সময় অন্যান্য জেলার মতো ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন ধরনের ভাজাপোড়া, শরবত এবং বিভিন্ন ধরনের ফলমূল পাবেন। এই জেলার বিশেষ ইফতার মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত কাটারীভোগ চালের খিচুড়ি, আলুর চপ, ডালের বড়া, ও স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত পিঠা অন্যতম। এই জেলার সেহরির শেষ সময় ঢাকা সময় থেকে ৬ মিনিট পরে এবং ইফতারের সময় শুরু হয় ঢাকা সময় থেকে ৯ মিনিট পরে। এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক, ঠাকুরগাঁও জেলাতে অবস্থানকালে আপনার সেহরি ও ইফতার সময়সূচি কিরকম হবে তা সম্পর্কে-
পঞ্চগড় জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
পঞ্চগড় জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যদি আপনি রমজান মাসে রোজা অবস্থায় সেই জেলাতে অবস্থান করেন। অন্যান্য জেলার মতো এই জেলাতেও সেহরিতে ভাত, ডাল, শাক-সবজি, আলু ভর্তা, শুটটি ভর্তা, মাছ ও মাংস খেয়ে থাকেন। তবে শীতপ্রবণ জেলা হওয়ায় এখানে অনেকে সেহরির সময় গরম দুধ-চা খেতে পছন্দ করেন।
ইফতারের সময় অন্যান্য জেলার মতো পঞ্চগড়ে বিভিন্ন ধরনের ভাজাপোড়া, শরবত এবং বিভিন্ন ধরনের ফলমূল পাবেন। এই জেলার বিশেষ ইফতার মধ্যে রয়েছে আলুর চপ, ডালের বড়া, ও স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত পিঠা অন্যতম। এই জেলার সেহরির শেষ সময় ঢাকা সময় থেকে ৬ মিনিট পরে এবং ইফতারের সময় শুরু হয় ঢাকা সময় থেকে ৮ মিনিট পরে। এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক, পঞ্চগড় জেলাতে অবস্থানকালে আপনার সেহরি ও ইফতার সময়সূচি কিরকম হবে তা সম্পর্কে-
রংপুর বিভাগের সকল জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
রংপুর বিভাগের সকল জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে যদি আপনি রমজান মাসে রংপুর বিভাগে অবস্থান করেন। যেহেতু এই মাসটি রোজা রাখার মাস সেহেতু আপনার রোজা রাখা এবং ইফতার করার ক্ষেত্রে যেখানে অবস্থান করছেন সেখানকার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে। আসুন রংপুর বিভাগের অন্যান্য ৭টি জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে জেনে নেই-
ক্রমিক নং | জেলা | সেহরির সময় | ইফতারের সময় |
---|---|---|---|
১ | রংপুর | ঢাকার সময় + ৪ মিঃ | ঢাকার সময় + ৫ মিঃ |
২ | গাইবান্ধা | ঢাকার সময় + ১ মিঃ | ঢাকার সময় + ৩ মিঃ |
৩ | কুড়িগ্রাম | ঢাকার সময় + ১ মিঃ | ঢাকার সময় + ৪ মিঃ |
৪ | লালমনিরহাট | ঢাকার সময় + ২ মিঃ | ঢাকার সময় + ৫ মিঃ |
৫ | নীলফামারী | ঢাকার সময় + ৪ মিঃ | ঢাকার সময় + ৭ মিঃ |
৬ | দিনাজপুর | ঢাকার সময় + ৫ মিঃ | ঢাকার সময় + ৭ মিঃ |
৭ | ঠাকুরগাঁও | ঢাকার সময় + ৬ মিঃ | ঢাকার সময় + ৯ মিঃ |
৮ | পঞ্চগড় | ঢাকার সময় + ৬ মিঃ | ঢাকার সময় + ৮ মিঃ |
রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার রমজান মাসের তাৎপর্য
রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার রমজান মাসের তাৎপর্য সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলমানকে জানা আবশ্যক।রোজা মুসলমানদের জন্য এমন একটি আমল যেখানে লোকদেখানো কোন কিছু থাকে না। এটি বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার অতি গোপন একটি বিষয়। ফলে রোজা রাখার মাধ্যমে আপনার এখলাস, আন্তরিকতা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের সর্বোত্তম মাধ্যম।
এজন্যই আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, “বান্দা রোজা যেহেতু শুধুই আমার জন্য
রেখেছে, সেহেতু রোজার প্রতিদান আমি নিজ হাতে বান্দাকে দিব”। রমজান মাসে রোজা যে
শুধু পানাহার এবং সহবাস থেকে বিরত থাকা তা নয়, আপনাকে অন্যান্য
সকল কর্মকান্ডে সংযমের পরিচয় দিতে হবে। পাপাচার, মিথ্যা ও অন্যান্য হারাম
বিষয়কে পরিহার করতে হবে। এই মাসে আরও তাৎপর্য রয়েছে আসুন এখন সেগুলো সম্পর্কে
জেনে নেওয়া যাক-
- এই মাসেই মুসলমানদের সর্বোচ্চ কিতাব কোরআন শরীফ নাযিল হয়েছে।
- রমজান মাসের ৩০ দিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ১০দিন রহমত, দ্বিতীয় ১০দিন মাগফিরাত এবং তৃতীয় ১০দিন নাজাত।
- রমজান মাসে রোজা সর্বোত্তম ইবাদত, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিকটবর্তী হওয়া সম্ভব।
-
আল্লাহ তাআলা রমজান মাসের রোজার মাধ্যমে বান্দার সকল পাপসমূহকে মাফ করে দেন।
-
রমজান মাসে প্রতিদিন ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহূর্তের সময়টি একটি বিশেষ সময়, যখন
রোজদাররা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করলে সেই প্রার্থনা সরাসরি কবুল
করবেন।
-
এই মাসটি বিশেষ সোয়াব এবং নেকি নিয়ে নেওয়ার একটি মাস। এই মাসে ১টি ফরজ
আদায় করলে ৭০টি ফরজ আদায় করার মতো সোয়াব পাওয়া যায় এবং ১টি নফল আদায় করলে
১টি ফরজ আদায় করার সমান সোয়াব পাওয়া যায়। এছাড়াও এই মাসে পবিত্র শবে-কদরের
একটি রাত্রি রয়েছে, যে রাত্রে আপনি ইবাদত করলে ১০০০ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি
সোয়াব অর্জন করতে পারেবেন।
-
এই মাসে আল্লাহ তাআলা জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেন এবং জাহান্নামের সকল দরজা
বন্ধ করে দেন।
- এই মাসে তিনি বড় শয়তান এবং খারাপ জ্বীনদের বন্দি করে রাখেন, যেন তারা তার বান্দাদের ধোকা দিয়ে বিপথে নিয়ে যেতে না পারে।
রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার পরিচিতি
রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার পরিচিতি সম্পর্কে প্রথমেই বলতে হয় এই বিভাগটি বাংলাদেশের সর্বউত্তরের একটি প্রশাসনিক বিভাগ, যা কৃষি ও সাংস্কৃতির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এই বিভাগের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বের ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ, দক্ষিণে রাজশাহী বিভাগ এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত। এই বিভাগের মধ্যে দিয়ে তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদী বয়ে গিয়েছে।
রংপুর বিভাগে মোট ৮টি জেলা রয়েছে, এর মধ্যে রংপুর জেলা এই বিভাগের প্রধান জেলা। এই জেলাটি তাজহাট জমিদার বাড়ি এবং ভাপার মাঠের জন্য বিখ্যাত। দিনাজপুর জেলাটি চাল উৎপাদনের জন্য দেশের অন্যতম প্রধান জেলা। এছাড়া এখানে কান্তজির মন্দির, রামসাগর ইত্যাদির জন্য বিখ্যাত।
গাইবান্ধা জেলাটি ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে অবস্থিত, যা মূলত কৃষিনির্ভর একটি জেলা। কুড়িগ্রাম জেলাটি তিস্তা ও ধরলা নদীর তীরে অবস্থিত, এই জেলাটি বন্যাকবলিত একটি জেলা, এখানকার অধিকাংশ মানুষই কৃষি ও পশুপালনের উপর নির্ভরশীল। লালমনিরহাট জেলাটি মূলত ভারতের সীমান্তবর্তী একটি জেলা, যেখানে তিস্তা ব্যারেজ রয়েছে।
নীলফামারী জেলাটি উত্তরা ইপিজেড ও সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপের জন্য বিখ্যাত।ঠাকুরগাঁও জেলাটি ধান ও গম উৎপাদনের জন্য ও রানী বিনোদিনী রাজবাড়ীর জন্য বিখ্যাত।পঞ্চগড় জেলাটি দেশের সর্বউত্তরের জেলা, যা চা চাষের জন্য বর্তমানে পরিচিত হয়ে উঠেছে। এছাড়াও এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতকে দেখা যায়।
রংপুর বিভাগের রমজান মাসের সেহরি খাওয়ার গুরুত্ব
রংপুর বিভাগের রমজান মাসের সেহরি খাওয়ার গুরুত্ব অনেক রয়েছে। সেহরি মানেই রাতে শেষভাগে পরের দিন রোজা রাখার উদ্দেশ্যে খাওয়া। সাধারণত প্রত্যেক মুসলমানকে দেরি করে অর্থাৎ ঠিক সুবহে সাদিকের পূর্বে সেহরি খাওয়া সুন্নত। আমাদের নবী রাসূল (সাঃ) সাধারণত দেরি করে সেহরি করতেন। এর পিছনে দুইটি কারণ রয়েছে।
প্রথমটি হচ্ছে রোজা রাখতে সহজ হয়, দ্বিতীয়টি হচ্ছে একই সাথে সেহরি খাওয়ার সাথে সাথে আপনি ফজরের নামাজ আদায় করতে পারবেন। যদি আপনি ফজরের ওয়াক্তের অনেক আগে সেহরি করে থাকেন তাহলে আপনাকে নামাজ আদায়ের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। আপনি যদি সতর্কতা অবলম্বন করে অনেক আগে সেহরি করে নেন তাহলে আপনার জন্যই রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে।
রংপুর বিভাগের রমজান মাসের ইফতার করার গুরুত্ব
রংপুর বিভাগের রমজান মাসের ইফতার করার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত কাজ। আপনি সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীর ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই সময় মত ইফতার করা শরীরের জন্য খুবই উপকারী এবং গুরুত্বপূর্ণ। হাদিস আছে, “মানুষ তখন পর্যন্ত কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতক্ষণ তারা ইফতারে তাড়াহুড়া করবে।” ইফতার শুধু যে আপনার শরীরের সুস্থতা এনে দিবে তা নয়, আপনার মনের শান্তিও এনে দিবে।
রোজা রাখার মাধ্যমে যেমন আপনি ধৈর্য এবং সংযমের শিক্ষা গ্রহণ করবেন, তেমন ইফতার সেই ধৈর্যের ফলস্বরূপ একটি আনন্দঘন মুহূর্ত হিসেবে আপনার সামনে হাজির হবে। এছাড়াও ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দোয়া কবুল করেন এবং মাফ করেন। সেজন্য আপনিও ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন। আল্লাহতায়ালার কাছে ইফতারের পূর্বের সময়টা খুবই পছন্দের নিয়ে একটি সময়। সে সময় আল্লাহ তার রোজাদার বান্দাদের প্রার্থনাকে কখনোই ফিরিয়ে দেন না।
রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য
রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে আমি একটি কথাই বলতে চাই, এই বিভাগের জেলাগুলার মধ্যে সময়ের পার্থক্য খুব বেশি চোখে পড়ে না। তাই আপনারা যখন রোজা রাখবেন তখন সেই জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশন করতে অনুমোদিত সেহরি ও ইফতার সময়সূচি মেনে সেহরি ও ইফতার করবেন।
বাংলাদেশের সকলে যেহেতু ইসলামী ফাউন্ডেশনের বেদে দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী সেহরি ও ইফতার করে থাকে সেজন্য আপনিও সেই সময় অনুযায়ী সেহরি ও ইফতার করবেন। এই পোস্টে আমি চেষ্টা করেছি ইসলামী ফাউন্ডেশন কর্তৃক অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী রংপুর বিভাগের রংপুর জেলার সেহরি ও ইফতার সময়সূচি তৈরি করার।
আশা করি আপনারা আমার এই পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সময় নিয়ে পড়েছেন এবং
ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক অনুমোদিত সময়সূচি মেনে সেহরি ও ইফতার করছেন। আমার এই
পোস্টটি আপনাদের যদি কাজে লাগে তাহলে আমি মনে করব আমার পোস্ট লেখা স্বার্থক। আজ
এই পর্যন্তই, ভবিষ্যতে এই পোস্টের কোন আপডেট অথবা নতুন কোন পোস্ট নিয়ে আপনাদের
মাঝে হাজির হব।
সে পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন। সঠিক সময়সূচি মেনে সেহরি ও ইফতার করবেন। ধন্যবাদ সবাইকে.......
অজানা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url