OrdinaryITPostAd

ঢাকা বিভাগের ১২টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫

ঢাকা বিভাগের ১২টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে আপনি জানতে চাচ্ছেন। তাহলে অনলাইনে আর বেশি খোঁজাখুঁজি না করে আমার এই পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটু সময় নিয়ে দেখবেন। আশাকরি আপনার জানার ইচ্ছাটা পূরণ হয়ে যাবে।

ছবি-১

এই পোস্টে আমি চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার রমজান মাসের প্রত্যেকটি দিনের সেহরি ও  ইফতারের সময় জানানোর। এখানে উল্লেখিত সময়গুলো ঢাকা বিভাগের জেলাভিত্তিক দেওয়া হয়েছে, যা আপনার জেলায় সেহরি ও ইফতার করার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।

এই পোস্টে যা যা থাকছেঃ ঢাকা বিভাগের ১২টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫

ঢাকা জেলার রমজান মসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি 

ঢাকা  জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে জানার প্রয়োজন রয়েছে যদি আপনি সেই অঞ্চলের হয়ে থাকেন। এই জেলাটি একটি ঘনবসতি ও ব্যস্ত এলাকা। যেহেতু এটি বাংলাদেশের রাজধানী সেহেতু অন্যান্য জেলা এই জেলার সময়সূচিকে ভিত্তি করে তাদের সময় ঠিক করে।

ইফতারের সময় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ বায়তুল মোকাররম, চকবাজার, পুরান ঢাকা ও বসুন্ধরা এলাকার ইফতার বাজার ঐতিহ্যবাহী এবং সমৃদ্ধ। এখানকার মানুষের ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে রয়েছে, বোরহানি, হালিম, বিভিন্ন ধরনের ভাজাপোড়া ইত্যাদি। আপনি এই জেলার হয়ে থাকলে নিচের সময়সূচিগুলো দেখে সেহরি এবং ইফতার করতে পারে।

ছবি-২

ঢাকা বিভাগের অন্যান্য ১১টি জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি

ঢাকা বিভাগের মধ্যে অন্যান্য ১১টি জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে সংক্ষেপে দেওয়া হলো। আপনাদের সময় নিয়ে সময়সূচি বের করে নিতে হবে। ঢাকা জেলা ব্যতীত অন্যান্য জেলাগুলো হলো-গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর। আসলে এই জেলাগুলোর সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি জেনে নেওয়া যাক-

ক্রমিক নং জেলার নাম সেহরির সময় ইফতারের সময়
গাজীপুর ঢাকার সময় + ১ মিঃ ঢাকার সাথে
নারায়ণগঞ্জ ঢাকার সাথে ঢাকার সময় - ১ মিঃ
টাঙ্গাইল ঢাকার সময় + ১ মিঃ ঢাকার সময় + ২ মিঃ
মানিকগঞ্জ ঢাকার সময় + ২ মিঃ ঢাকার সময় + ১ মিঃ
কিশোরগঞ্জ ঢাকার সময় - ২ মিঃ ঢাকার সময় - ২ মিঃ
নরসিংদী ঢাকার সময় - ২ মিঃ ঢাকার সময় - ১ মিঃ
মন্সিগঞ্জ ঢাকার সাথে ঢাকার সাথে
রাজবাড়ী ঢাকার সময় + ৪ মিঃ ঢাকার সময় + ৪ মিঃ
গোপালগঞ্জ ঢাকার সময় + ৩ মিঃ ঢাকার সময় + ২ মিঃ
১০ শরীয়তপুর ঢাকার সময় + ১ মিঃ ঢাকার সাথে
১১ মাদারীপুর ঢাকার সময় + ১ মিঃ ঢাকার সাথে

ঢাকা বিভাগের ১২টি জেলার রমজান মাসের তাৎপর্য

রমজান মাসের তাৎপর্য সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলমানকে জানা আবশ্যক।রোজা মুসলমানদের জন্য এমন একটি আমল যেখানে লোকদেখানো কোন কিছু থাকে না। এটি বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার অতি গোপন একটি বিষয়। ফলে রোজা রাখার মাধ্যমে আপনার এখলাস, আন্তরিকতা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের সর্বোত্তম মাধ্যম।

এজন্যই আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, “বান্দা রোজা যেহেতু শুধুই আমার জন্য রেখেছে, সেহেতু রোজার প্রতিদান আমি নিজ হাতে বান্দাকে দিব”। রমজান মাসে রোজা যে শুধু পানাহার এবং সহবাস থেকে বিরত থাকা তা নয়, আপনাকে অন্যান্য সকল কর্মকান্ডে সংযমের পরিচয় দিতে হবে। পাপাচার, মিথ্যা ও অন্যান্য হারাম বিষয়কে পরিহার করতে হবে। এই মাসে আরও তাৎপর্য রয়েছে আসুন এখন সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

  • এই মাসেই মুসলমানদের সর্বোচ্চ কিতাব কোরআন শরীফ নাযিল হয়েছে।
  • রমজান মাসের ৩০ দিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ১০দিন রহমত, দ্বিতীয় ১০দিন মাগফিরাত এবং তৃতীয় ১০দিন নাজাত।
  • রমজান মাসে রোজা সর্বোত্তম ইবাদত, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিকটবর্তী হওয়া সম্ভব।
  • আল্লাহ তাআলা রমজান মাসের রোজার মাধ্যমে বান্দার সকল পাপসমূহকে মাফ করে দেন।
  • রমজান মাসে প্রতিদিন ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহূর্তের সময়টি একটি বিশেষ সময়, যখন রোজদাররা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করলে সেই প্রার্থনা সরাসরি কবুল করবেন।
  • এই মাসটি বিশেষ সোয়াব এবং নেকি নিয়ে নেওয়ার একটি মাস। এই মাসে ১টি ফরজ আদায় করলে ৭০টি ফরজ আদায় করার মতো সোয়াব পাওয়া যায় এবং ১টি নফল আদায় করলে ১টি ফরজ আদায় করার সমান সোয়াব পাওয়া যায়। এছাড়াও এই মাসে পবিত্র শবে-কদরের একটি রাত্রি রয়েছে, যে রাত্রে আপনি ইবাদত করলে ১০০০ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি সোয়াব অর্জন করতে পারেবেন।
  • এই মাসে আল্লাহ তাআলা জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেন এবং জাহান্নামের সকল দরজা বন্ধ করে দেন।
  • এই মাসে তিনি বড় শয়তান এবং খারাপ জ্বীনদের বন্দি করে রাখেন, যেন তারা তার বান্দাদের ধোকা দিয়ে বিপথে নিয়ে যেতে না পারে।

ঢাকা বিভাগের ১২টি জেলার পরিচিতি

ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার পরিচিতির প্রথমেই বলতে হয়, এই বিভাগটি বাংলাদেশের কেন্দ্রে অবস্থিত, যা দেশের রাজধানী হিসেবে পরিচিত। প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে জেলাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই বিভাগের উত্তর দিকে ময়মনসিংহ, পূর্বে সিলেট, পশ্চিমে রাজশাহী এবং দক্ষিণে বরিশাল বিভাগ অবস্থিত। এই বিভাগে মোট ১২টি জেলা রয়েছে।

আপনি জানেন ঢাকা জেলাটি বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। গাজীপুর জেলা ঢাকার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত, যা অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। নারায়ণগঞ্জ ঢাকার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এই জেলায় প্রচুর বস্ত্রশিল্পের কারখানা রয়েছে। টাঙ্গাইল জেলাটি ঢাকার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত, যা জামদানি শাড়ি ও মধুপুর গড়ের জন্য বিখ্যাত। 

মানিকগঞ্জ ঢাকার পশ্চিমে অবস্থিত, যা যমুনা ও পদ্মা নদী বিশিষ্ট একটি কৃষি নির্ভর জেলা হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত, যা শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের জন্য বিখ্যাত। নরসিংদী জেলাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংলগ্ন একটি জেলা, যা তাঁতশিল্পের জন্য পরিচিত। মুন্সিগঞ্জ পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত, যা প্রাচীন বিক্রমপুরের একটি অংশ এবং ঐতিহাসিক কিছু দুর্গ এখানে রয়েছে। 

রাজবাড়ী খুলনা বিভাগের সংলগ্ন একটি কৃষি নির্ভর জেলা। গোপালগঞ্জ ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত, যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান। শরীয়তপুর এবং মাদারীপুর দুই জেলা পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত, যা কৃষি ও নৌ-পরিবহনের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়। আয়তনের দিক দিয়ে টাঙ্গাইল হচ্ছে ঢাকা বিভাগের বৃহত্তম জেলা এবং নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে ঢাকা বিভাগের ক্ষুদ্রতম জেলা।

রমজান মাসের সেহরি খাওয়ার গুরুত্ব

রমজান মাসের সেহরি খাওয়ার গুরুত্ব অনেক রয়েছে। সেহরি মানেই রাতে শেষভাগে পরের দিন রোজা রাখার উদ্দেশ্যে খাওয়া। সাধারণত প্রত্যেক মুসলমানকে দেরি করে অর্থাৎ ঠিক সুবহে সাদিকের পূর্বে সেহরি খাওয়া সুন্নত। আমাদের নবী রাসূল (সাঃ) সাধারণত দেরি করে সেহরি করতেন। এর পিছনে দুইটি কারণ রয়েছে।

প্রথমটি হচ্ছে রোজা রাখতে সহজ হয়, দ্বিতীয়টি হচ্ছে একই সাথে সেহরি খাওয়ার সাথে সাথে আপনি ফজরের নামাজ আদায় করতে পারবেন। যদি আপনি ফজরের ওয়াক্তের অনেক আগে সেহরি করে থাকেন তাহলে আপনাকে নামাজ আদায়ের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। আপনি যদি সতর্কতা অবলম্বন করে অনেক আগে সেহরি করে নেন তাহলে আপনার জন্যই রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে।

রমজান মাসের ইফতার করার গুরুত্ব

রমজান মাসের ইফতার করার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত কাজ। আপনি সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীর ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই সময় মত ইফতার করা শরীরের জন্য খুবই উপকারী এবং গুরুত্বপূর্ণ। হাদিস আছে, “মানুষ তখন পর্যন্ত কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতক্ষণ তারা ইফতারে তাড়াহুড়া করবে।” ইফতার শুধু যে আপনার শরীরের সুস্থতা এনে দিবে তা নয়, আপনার মনের শান্তিও এনে দিবে।

রোজা রাখার মাধ্যমে যেমন আপনি ধৈর্য এবং সংযমের শিক্ষা গ্রহণ করবেন, তেমন ইফতার সেই ধৈর্যের ফলস্বরূপ একটি আনন্দঘন মুহূর্ত হিসেবে আপনার সামনে হাজির হবে। এছাড়াও ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দোয়া কবুল করেন এবং মাফ করেন। সেজন্য আপনিও ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন। আল্লাহ তাআলার কাছে ইফতারের পূর্বের সময়টা খুবই পছন্দের নিয়ে একটি সময়। সে সময় আল্লাহ তার রোজাদার বান্দাদের প্রার্থনাকে কখনোই ফিরিয়ে দেন না।

ঢাকা বিভাগের ১২টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য

ঢাকা বিভাগের ১২টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে আমি একটি কথাই বলতে চাই, আপনি ঢাকা বিভাগের যে জেলাতেই বসবাস করেন না কেন আমার এই পোস্টটির মাধ্যমে আপনি যদি সেহরি ও ইফতার করে থাকেন তাহলে তা সঠিক সময় হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এই পোস্টে আপনারা ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন ভৌগলিক দিক সম্পর্কে জেনেছেন।

ছবি-৩

এই পোষ্টের মাধ্যমে আমি চেষ্টা করেছি ঢাকা বিভাগের সকল জেলাগুলোর ২০২৫ সালের রমজান মাসের সময়সূচি দেওয়ার। আশা করি এই পোস্টটি আপনার ২০২৫ সালে রোজা রাখতে সাহায্য ও সহযোগিতা করবে। এই পোস্টটি আপনাদের যদি সেহরি ও ইফতার করতে কাজে লাগে তাহলে আমি মনে করব আমার পোস্টটি স্বার্থক। আজ এই পর্যন্তই ভবিষ্যতে এই পোস্টের কোন আপডেট অথবা নতুন কোন পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব।


সে পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন। সময়সূচি মেনে রমজান মাসের সেহরি ও ইফতার করবেন। ধন্যবাদ সবাইকে..........

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অজানা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url