চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫
চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে আপনি জানতে চাচ্ছেন। তাহলে অনলাইনে আর বেশি খোঁজাখুঁজি না করে আমার এই পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটু সময় নিয়ে দেখবেন। আশাকরি আপনার জানার ইচ্ছাটা পূরণ হয়ে যাবে।
এই পোস্টে আমি চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার রমজান মাসের প্রত্যেকটি দিনের সেহরি ও ইফতারের সময় জানানোর। এখানে উল্লেখিত সময়গুলো চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাভিত্তিক দেওয়া হয়েছে, যা আপনার জেলায় সেহরি ও ইফতার করার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।
এই পোস্টে যা যা থাকছেঃ চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫
- চট্টগ্রাম জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য ১০টি জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার রমজান মাসের তাৎপর্য
- চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার পরিচিতি
- চট্টগ্রাম বিভাগে রমজান মাসের সেহরি করার গুরুত্ব
- চট্টগ্রাম বিভাগে রমজান মাসের ইফতার করার গুরুত্ব
- চট্টগ্রাম বিভাগের ৮টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য
চট্টগ্রাম জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
চট্টগ্রাম জেলার রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনার প্রয়োজন হলে জেনে নিতে পারবেন। চট্টগ্রামকে মূলত সমুদ্র বন্দর নগরী বলা হয়। এখানকার মানুষ অন্যান্য জেলার তুলনায় খুব ব্যবসাপ্রিয়। ভাত, রুটি, ডাল, মাছ, মাংস, দুধ-চিনি ও দই খেতে পছন্দ করেন। তবে আপনি যদি হালকা খাবার পছন্দ করেন তাহলে চিড়া, মুড়ি, কলা ও নারিকেল খেতে পারেন।
আপনি হয়তো জানেন ইফতারে চট্টগ্রামের মানুষ খুবই বিশেষ এবং দেশজুড়ে বিখ্যাত। সচরাচর ইফতারে যেসব খাবার পাওয়া যায় তার পাশাপাশি কিছু বিশেষ ধরনের খাবার এখানে প্রচলিত রয়েছে, এর মধ্যে মেজবানি মাংস, আফগানি পরোটা, বাসমতি পোলাও ও সন্দেশ উল্লেখযোগ্য। সমুদ্রের পাড়ের জেলা হওয়ার কারণে অনেক মানুষ ভিন্নধর্মী সামুদ্রিক খাবারেও ইফতার করে থাকে। আসুন জেনে নেওয়া যাক জিলাটির সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে-
চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য ১০টি জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
অন্যান্য ৬টি জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে যদি আপনি রমজান মাসে চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে অবস্থান করেন। যেহেতু এই মাসটি রোজা রাখার মাস সেহেতু আপনার রোজা রাখা এবং ইফতার করার ক্ষেত্রে যেখানে অবস্থান করছেন সেখানকার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচিচী অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে। আসুন চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য ১০টি জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে জেনে নেই-
ক্রমিক নং | জেলা | সেহরির সময় | ইফতারের সময় |
---|---|---|---|
১ | কক্সবাজার | ঢাকার সময় - ৪ মিঃ | ঢাকার সময় - ৭ মিঃ |
২ | বান্দরবান | ঢাকার সময় - ৬ মিঃ | ঢাকার সময় - ৮ মিঃ |
৩ | রাঙামাটি | ঢাকার সময় - ৬ মিঃ | ঢাকার সময় - ৮ মিঃ |
৪ | খাগড়াছড়ি | ঢাকার সময় - ৬ মিঃ | ঢাকার সময় - ৭ মিঃ |
৫ | ফেনী | ঢাকার সময় - ৩ মিঃ | ঢাকার সময় - ৫ মিঃ |
৬ | লক্ষীপুর | ঢাকার সময় - ১ মিঃ | ঢাকার সময় - ২ মিঃ |
৭ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ঢাকার সময় - ৩ মিঃ | ঢাকার সময় - ৩ মিঃ |
৮ | নোয়াখালী | ঢাকার সময় - ২ মিঃ | ঢাকার সময় - ৩ মিঃ |
৯ | চাঁদপুর | ঢাকার সময় - ১ মিঃ | ঢাকার সময় - ১ মিঃ |
১০ | কুমিল্লা | ঢাকার সময় - ৩ মিঃ | ঢাকার সময় - ৪ মিঃ |
চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার রমজান মাসের তাৎপর্য
চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার রমজান মাসের তাৎপর্য সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলমানকে জানা আবশ্যক।রোজা মুসলমানদের জন্য এমন একটি আমল যেখানে লোকদেখানো কোন কিছু থাকে না। এটি বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার অতি গোপন একটি বিষয়। ফলে রোজা রাখার মাধ্যমে আপনার এখলাস, আন্তরিকতা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের সর্বোত্তম মাধ্যম।
এজন্যই আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, “বান্দা রোজা যেহেতু শুধুই আমার জন্য
রেখেছে, সেহেতু রোজার প্রতিদান আমি নিজ হাতে বান্দাকে দিব”। রমজান মাসে রোজা যে
শুধু পানাহার এবং সহবাস থেকে বিরত থাকা তা নয়, আপনাকে অন্যান্য
সকল কর্মকান্ডে সংযমের পরিচয় দিতে হবে। পাপাচার, মিথ্যা ও অন্যান্য হারাম
বিষয়কে পরিহার করতে হবে। এই মাসে আরও তাৎপর্য রয়েছে আসুন এখন সেগুলো সম্পর্কে
জেনে নেওয়া যাক-
- এই মাসেই মুসলমানদের সর্বোচ্চ কিতাব কোরআন শরীফ নাযিল হয়েছে।
- রমজান মাসের ৩০ দিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ১০দিন রহমত, দ্বিতীয় ১০দিন মাগফিরাত এবং তৃতীয় ১০দিন নাজাত।
- রমজান মাসে রোজা সর্বোত্তম ইবাদত, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিকটবর্তী হওয়া সম্ভব।
-
আল্লাহ তাআলা রমজান মাসের রোজার মাধ্যমে বান্দার সকল পাপসমূহকে মাফ করে দেন।
-
রমজান মাসে প্রতিদিন ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহূর্তের সময়টি একটি বিশেষ সময়, যখন
রোজদাররা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করলে সেই প্রার্থনা সরাসরি কবুল
করবেন।
-
এই মাসটি বিশেষ সোয়াব এবং নেকি নিয়ে নেওয়ার একটি মাস। এই মাসে ১টি ফরজ
আদায় করলে ৭০টি ফরজ আদায় করার মতো সোয়াব পাওয়া যায় এবং ১টি নফল আদায় করলে
১টি ফরজ আদায় করার সমান সোয়াব পাওয়া যায়। এছাড়াও এই মাসে পবিত্র শবে-কদরের
একটি রাত্রি রয়েছে, যে রাত্রে আপনি ইবাদত করলে ১০০০ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি
সোয়াব অর্জন করতে পারেবেন।
-
এই মাসে আল্লাহ তাআলা জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেন এবং জাহান্নামের সকল দরজা
বন্ধ করে দেন।
- এই মাসে তিনি বড় শয়তান এবং খারাপ জ্বীনদের বন্দি করে রাখেন, যেন তারা তার বান্দাদের ধোকা দিয়ে বিপথে নিয়ে যেতে না পারে।
চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার পরিচিতি
চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার পরিচিতি তুলে ধরতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, যা অসংখ্য পাহাড়, সমুদ্র এবং উপকূলীয় সমভূমির সমন্বয়ে গঠিত। এই বিভাগের পূর্ব দিকে মিয়ানমার ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে, পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে ঢাকা ও সিলেট বিভাগ, দক্ষিণে কক্সবাজার জেলা অবস্থিত। এই বিভাগে মোট ১১ টি জেলা রয়েছে।
আমি আগেই বলেছি চট্টগ্রাম জেলা দেশের প্রধান বন্দননগরী, যা
কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। এই জেলাটি শিল্প, বাণিজ্য এবং পর্যটনের জন্য অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের জন্য
পরিচিত, যা পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা তিনটি পার্বত্য জেলা হিসেবে পরিচিত, যেখানে বিভিন্ন
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে। এই তিনটি জেলাও পর্যটকদের জন্য অন্যতম
আকর্ষণীয় স্থান।
ফেনী জেলাটি কৃষি নির্ভর একটি জেলা, যা চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা দুইটি উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, যা কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদপুর ইলিশের বাড়ি হিসেবে পরিচিত, যেখানে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থল। কুমিল্লা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন শহর, যেখানে শালবন বিহার লালমাই পাহাড় অবস্থিত। ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিতাস নদীর তীরে অবস্থিত, যা হাওর অঞ্চলের জন্য পরিচিত।
চট্টগ্রাম বিভাগে রমজান মাসের সেহরি খাওয়ার গুরুত্ব
চট্টগ্রাম বিভাগে রমজান মাসের সেহরি খাওয়ার গুরুত্ব অনেক রয়েছে। সেহরি মানেই রাতে শেষভাগে পরের দিন রোজা রাখার উদ্দেশ্যে খাওয়া। সাধারণত প্রত্যেক মুসলমানকে দেরি করে অর্থাৎ ঠিক সুবহে সাদিকের পূর্বে সেহরি খাওয়া সুন্নত। আমাদের নবী রাসূল (সাঃ) সাধারণত দেরি করে সেহরি করতেন। এর পিছনে দুইটি কারণ রয়েছে।
প্রথমটি হচ্ছে রোজা রাখতে সহজ হয়, দ্বিতীয়টি হচ্ছে একই সাথে সেহরি খাওয়ার সাথে সাথে আপনি ফজরের নামাজ আদায় করতে পারবেন। যদি আপনি ফজরের ওয়াক্তের অনেক আগে সেহরি করে থাকেন তাহলে আপনাকে নামাজ আদায়ের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। আপনি যদি সতর্কতা অবলম্বন করে অনেক আগে সেহরি করে নেন তাহলে আপনার জন্যই রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে।
চট্টগ্রাম বিভাগে রমজান মাসের ইফতার করার গুরুত্ব
চট্টগ্রাম বিভাগে রমজান মাসের ইফতার করার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত কাজ। আপনি সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীর ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই সময় মত ইফতার করা শরীরের জন্য খুবই উপকারী এবং গুরুত্বপূর্ণ। হাদিস আছে, “মানুষ তখন পর্যন্ত কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতক্ষণ তারা ইফতারে তাড়াহুড়া করবে।” ইফতার শুধু যে আপনার শরীরের সুস্থতা এনে দিবে তা নয়, আপনার মনের শান্তিও এনে দিবে।
রোজা রাখার মাধ্যমে যেমন আপনি ধৈর্য এবং সংযমের শিক্ষা গ্রহণ করবেন, তেমন ইফতার সেই ধৈর্যের ফলস্বরূপ একটি আনন্দঘন মুহূর্ত হিসেবে আপনার সামনে হাজির হবে। এছাড়াও ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দোয়া কবুল করেন এবং মাফ করেন। সেজন্য আপনিও ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন। আল্লাহতায়ালার কাছে ইফতারের পূর্বের সময়টা খুবই পছন্দের নিয়ে একটি সময়। সে সময় আল্লাহ তার রোজাদার বান্দাদের প্রার্থনাকে কখনোই ফিরিয়ে দেন না।
চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য
চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার রমজান মাসের সময়সূচি সম্পর্কে আমি একটি কথাই বলতে চাই, আপনি চট্টগ্রাম বিভাগের যে জেলাতেই বসবাস করেন না কেন আমার এই পোস্টটির মাধ্যমে আপনি যদি সেহরি ও ইফতার করে থাকেন তাহলে তা সঠিক সময় হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এই পোস্টে আপনারা চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন ভৌগলিক দিক সম্পর্কে জেনেছেন।
এই পোষ্টের মাধ্যমে আমি চেষ্টা করেছি চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলাগুলোর ২০২৫ সালের রমজান মাসের সময়সূচি দেওয়ার। আশা করি এই পোস্টটি আপনার ২০২৫ সালে রোজা রাখতে সাহায্য ও সহযোগিতা করবে। এই পোস্টটি আপনাদের যদি সেহরি ও ইফতার করতে কাজে লাগে তাহলে আমি মনে করব আমার পোস্টটি স্বার্থক। আজ এই পর্যন্তই ভবিষ্যতে এই পোস্টের কোন আপডেট অথবা নতুন কোন পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব।
সে পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন। সময়সূচি মেনে রমজান মাসের সেহরি ও ইফতার করবেন। ধন্যবাদ সবাইকে..........
অজানা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url