মুদির দোকান শুরু করার দারুন আইডিয়া ও গোপন ১০টি টিপস
মুদির দোকান শুরু করার দারুন আইডিয়া ও গোপন ১০টি টিপস নিয়ে আজ আমি আপনাদের মাঝে হাজির হলাম। আশাকরি আপনারা একটু সময় নিয়ে পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বেন। পোস্টটি পড়ে আপনি নিজেও হয়তো মুদি দোকানের মালিক হওয়া স্বপ্ন দেখতে পারবেন।
অল্প পুঁজিতে আপনার যদি কোন ব্যবসা করার ইচ্ছা থাকে তাহলে আপনি একটি মুদির দোকান দিয়ে আপনার ব্যবসাটা শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসাটি একটি মজার ব্যবসা, যেখানে কাস্টমার এবং সেলারদের সাথে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে মুদির দোকান মালিকরা কাজ করে থাকে। তবে এটি খুব লাভজনক এবং ব্যস্ততম একটি ব্যবসা।
এই পোস্টে যা যা থাকছেঃ মুদির দোকান শুরু করার দারুন আইডিয়া ও গোপন টিপস
- মুদির দোকান ব্যবসার ধারণা
- মুদির দোকান শুরু করার সুবিধা
- মুদির দোকান শুরু করার পরিকল্পনা বা রোডম্যাপ
- দোকানের স্থান নির্বাচন মুদির দোকান ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে
- মুদির দোকান শুরু করার আগে বাজার গবেষণা
- মুদির দোকানের জন্য নাম বাছাইকরণ
- মুদির দোকান শুরু করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- মুদির দোকানে অনলাইন সার্ভিসসমূহ ব্যবহার
- কয়েকটি ধাপসমুহ মুদির দোকান শুরু করার
- মুদির দোকানে লাভ বৃদ্ধির চমৎকার উপায়
- মুদির দোকান শুরু করার আইডিয়া সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য
মুদির দোকান ব্যবসার ধারণা
মুদির দোকান একটি লাভজনক ও স্থায়ী ব্যবসা, যা শহর থেকে গ্রাম এবং দেশ থেকে বিদেশ সব জায়গাতেই অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি এমন একটি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী বিক্রি করা হয়। এই ব্যবসাটি মূলত স্থানীয় বক্তাদের উপর নির্ভরশীল এবং ক্রেতারা দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা মেটানোর জন্য নিয়মিত এই দোকানগুলোতে আসেন।
মুদির দোকান ব্যবসায় একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসা, যেখানে নিয়মিত চাহিদা
থাকে। তবে সঠিক হিসাব রাখা, পর্যাপ্ত মূলধন রাখা এবং বাজার যাচাই করে সঠিক পণ্য
সংগ্রহ করাই এই ব্যবসার মূল চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে
হলে নতুন পণ্য এবং বিভিন্ন অফারের প্রচার করতে হয়।
এছাড়াও বিশেষ কিছু সময়ের উৎসব ও ঋতুভিত্তিক চাহিদা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে
কিছু অতিরিক্ত পণ্য মজুদ করে ব্যবসা করলে লাভের পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। এই
ব্যবসায় প্রথমে আপনি কম বিনিয়োগ করে শুরু করতে পারেন। তবে ধীরে ধীরে
মূলধনের পরিমাণ বাড়িয়ে এবং সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আপনি
এটিকে দীর্ঘস্থায়ী আয়ের মাধ্যম হিসেবে তৈরি করতে পারেন।
মুদির দোকান শুরু করার সুবিধা
মুদির দোকান শুরু করার সুবিধাগুলো সম্পর্কে জানলে আপনি অবাক হবেন। এই ব্যবসার সব থেকে বড় সুবিধা হচ্ছে আপনি যদি হিসাব নিকাশে পারদর্শী হন তাহলেই এ ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। এই ব্যবসা সহজ, স্থিতিশীল এবং দীর্ঘমেয়াদি আয়ের একটি চমৎকার উপায়। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি সুবিধা রয়েছে আসুন এখন সেগুলো জেনে নেওয়া যাক-
- বড় শহরের তুলনায় ছোট শহরগুলোতে মুদির দোকানে লাভ বেশি হয় কারণ ছোট শহরগুলোতে কম সংখ্যক মুদির দোকান থাকে। সাধারণত পণ্য সরবরাহকারীদের থেকে দূরত্বের কারণে পণ্যের দাম ছোট শহরগুলোতে বেশি থাকে।
- এই দোকান ব্যবসায় এমন পণ্য বিক্রি করা হয় যা মানুষের প্রতিদিন প্রয়োজন হয়, ফলে এর চাহিদা বা বাজার সব সময়ই থাকবে।
- আপনি অন্য ব্যবসা তুলনায় এই ব্যবসাতে প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিমাণ কম দিয়ে শুরু করতে পারেন। তবে আপনি যদি অধিক লাভ করতে চান তাহলে অবশ্যই বিনিয়োগ ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে।
- মুদির দোকানে পণ্য যেহেতু দ্রুত বিক্রি হয় সেহেতু প্রতিদিন নগদ লেনদেন হয়। হলে আপনি প্রতিদিনই আয় করতে পারবেন এবং লাভের অংশটুকু পুনরায় বিনিয়োগ করতে পারবেন। ফলে আপনার বিনিয়োগের পরিমাণ আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাবে।
-
ক্রেতাদের যাওয়া আসা বাজারে বিভিন্ন সময়ে ওঠা নামা থাকলেও এই ব্যবসা
স্থিতিশীল থাকে, কারণ খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাহিদা কখনো কমে না।
দেশের অর্থনৈতিক মন্দার সময়ও এই ব্যবসা নিরাপদ থাকে।
-
যেহেতু এই ব্যবসাটি স্থানীয় গ্রাহকদের উপর নির্ভরশীল সেহেতু আপনি যদি
বিশ্বস্ততার সহিত ব্যবসা করতে পারেন তাহলে আপনার ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদি টিকে
থাকবে।
-
বিজ্ঞাপন বা প্রচারণার জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না। ফলে আনুষাঙ্গিক খরচের
পরিমাণ অনেক কমে যায়।
-
বেশিরভাগ ক্রেতাই সাধারণত নগদে কেনাকাটা করে। তবে খুব অল্প কিছু পরিমাণ আপনাকে
বাকিটা অবশ্যই দিতে হবে ক্রেতাকে ধরে রাখার জন্য।
-
এই ব্যবসার পাশাপাশি আপনি ইচ্ছা করলেই মোবাইল রিচার্জ, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ এবং
অন্যান্য আনুষাঙ্গিক স্টেশনারি বিক্রয় করে বাড়তি আয় করতে পারবেন।
-
অতিরিক্ত লেখাপড়া বা দক্ষতার প্রয়োজন হয় না।
-
অন্যান্য চাকরির মত নির্দিষ্ট সময়ের বাধাধরা কোন নিয়ম থাকে না। তবে যত বেশি
সময় দিবেন তত বেশি লাভ করতে পারবেন এবং ক্রেতার সংখ্যা তত বৃদ্ধি পাবে।
মুদির দোকান শুরু করার পরিকল্পনা বা রোডম্যাপ
মুদির দোকান শুরু করার পরিকল্পনা বা রোডম্যাপ আপনাকে শুরুতে করতে হবে। এই পরিকল্পনায় আপনার যেসব বিষয়গুলো গুলো থাকবে তার মধ্যে আর্থিক এবং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সুবিধা, কারিগরি সহায়তা, বাজারজাতকরণের পদক্ষেপসমূহ, ব্যবসায়িক উন্নয়নের মূলধনের সম্পূর্ণ বিবরণী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও যেসব সম্পর্কে আপনার পরিকল্পনা এবং পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে সেগুলো হল-
- প্রথমেই আপনাকে জনতে হবে মুদির দোকান খোলার জন্য কোন ধরণের লাইসেন্স প্রয়োজন হবে।
- আপনার মুদির দোকানটি খোলার জন্য প্রাথমিকভাবে আনুমানিক কত টাকা লাগবে তা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।
- কোথা হতে শুরুতেই সহজে ঋণ নেওয়া সম্ভব হবে তা যাচাই করতে হবে।
- একটি মুদির দোকান কতটা লাভজনক হতে পারে তা সম্পর্কে পরিষ্কার পূর্ণ ধারণা থাকতে হবে।
-
কিভাবে আপনি সফল মুদির দোকান ব্যবসায়ী হতে পারবেন তা
সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা করতে হবে।
-
আপনার মুদির দোকানটিতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ কতটা লাভ নিয়ে পন্যটি
বিক্রয় করতে পারবেন তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- আপনার মুদির দোকানটি রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
- আপনার মুদির দোকানটি শুরু করার পরে কোন কোন বিষয়গুলো পরিহার করতে হবে তা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।
দোকানের স্থান নির্বাচন মুদির দোকন ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে
দোকানের স্থান নির্বাচন মুদির দোকান ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা আপনাকে জ্ঞান এবং অত্যন্ত দক্ষতা সহীত নির্বাচন করতে হবে। দোকানের স্থান নির্বাচনের জন্য কয়েকটি বিষয় আপনাকে খুব সতর্কতার সহিত বিবেচনা করতে হবে। আসুন সেসব বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-
- আপনি যে এলাকায় দোকানটি শুরু করার কথা ভাবছেন সে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সেখানকার জনসংখ্যা, সেখানকার লোকদের পেশা, তাদের সম্ভাব্য আয়, পণ্য ক্রয়ের অভ্যাস, যানবাহনের ব্যবহার ইত্যাদি।
- দোকানের জন্য আপনার নির্ধারিত স্থানটি অবশ্যই আপনার ক্রেতাদের বসবাসের এলাকার কাছাকাছি হতে হবে, যাতে তারা সহজেই এবং নিয়মিতভাবে কেনাকাটা করতে পারে।
- দোকানের জন্য নির্ধারিত স্থানটিতে অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে যেখানে প্রতিযোগীতার সম্ভাবনা থাকে। প্রতিযোগিতা না থাকলে ক্রেতারা সেস্থানে সাধারণত কম যায়, কারণ ক্রেতারা চায় অন্যান্য দোকানে যাচাই করতে। সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গেলে আপনাকে অবশ্যই ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কিছু ভিন্নতা আনতে হবে।
- দোকানের জন্য নির্ধারিত স্থানটি এমন জায়গায় হতে হবে যেখানে ট্র্যাফিকের পরিমাণ বেশি যেমন-স্কুল, ব্যাংক, পেট্রোল পাম্প, হাসপাতাল ইত্যাদি। এসব জায়গাতে মানুষ হেঁটে অথবা গাড়িতে চলাফেরা করে বেশি ফলে আপনার কেনাবেচার পরিমাণও বেশি হবে।
-
আপনার দোকানের জন্য নির্বাচিত স্থানটি অবশ্যই লোকজনের দর্শনীয় স্থানে হতে
হবে, যেখানে লোকজন নিয়মিত চলাচল করে। সবার চোখে পড়ার মতো স্থান নির্বাচন
করতে হবে।
-
নির্বাচিত স্থানটি এমন জায়গায় হতে হবে যেখানে হেঁটে অথবা গাড়ি নিয়ে সহজেই
পৌঁছানো যায়। আপনার নির্বাচিত স্থানটি যদি বেশি ভীড়ময় এলাকায় হয়ে থাকে
তাহলে সেখান ক্রেতার সমাগম কম হবে।
- দোকানের স্থানটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই আশেপাশের পরিবেশের উপর বিশেষ নজর রাখতে হবে। দোকানের আশেপাশে পরিবেশ শান্তিপূর্ণ এবং সহায়ক না হলে ব্যবসায় ক্রেতা আস্তে আস্তে কমে যাবে।
মুদির দোকান শুরু করার আগে বাজার গবেষণা
মুদির দোকান শুরু করার আগে বাজার গবেষণা করা অত্যন্ত জরুরী একটি বিষয়। শুধুমাত্র মুদির দোকান শুরু করার ক্ষেত্রেই নয় যে কোন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি অতি জরুরী। এজন্য আপনাকে ক্রেতার প্রয়োজন, পছন্দ ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়াও তাদের ব্যয়ের ধরন, জনসংখ্যা, চাকুরীর পরিসংখ্যান, খরচের পরিসংখ্যান ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে হবে।
আপনার প্রতিযোগীদের বিভিন্ন কার্যক্রমের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। বিশেষ
করে প্রতিযোগীরা কখন, কিভাবে পণ্য বিক্রয় করছে তা সম্পর্কে গবেষণা করতে
হবে, কারণ তাদের বিক্রয়ের পদ্ধতি হতে আপনার বিক্রয়ের প্রক্রিয়ার অবশ্যই
ভিন্নতা আনতে হবে। তা না হলে ক্রেতা আকৃষ্ট হবে না।
এই গবেষণাটি আপনার মুদির দোকানের ব্যবসাটি আপনার নির্বাচিত এলাকায় বসবাসরত
মানুষের চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারবে কিনা তা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দিবে।
এরপরও যদি আপনার আরো পরিষ্কার ধারণার প্রয়োজন হয় প্রয়োজন হয় তাহলে আপনি সেই
এলাকার মধ্যে একটি জরিপ পরিচালনা করতে পারেন।
মুদির দোকানের জন্য নাম বাছাইকরণ
মুদির দোকানের জন্য নাম বাছাইকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গ্রাহকরা যেন খুব সহজেই আপনার দোকানের নামটি মনে রাখতে পারে সে রকম একটি নাম নির্ধারণ করতে হবে। সাধারণত এক শব্দ বিশিষ্ট নাম গুলো খুব সহজে মনে রাখা সম্ভব হয় এবং প্রচার-প্রচারণা করতেও অনেক সুবিধা হয়।
সেজন্য আপনি এক শব্দের একটি নাম বাছাই করার চেষ্টা করবেন। দোকানের নামটি যদি ছড়াময় হয় তাহলেও গ্রাহকের মনে রাখতে সুবিধা হয়। আপনার মুদির দোকানের অবশ্যই একটি সাইনবোর্ড থাকবে যেখানে একটি আকর্ষণীয় ছবি থাকে। আপনি সেই ছবির সাথে মিল রেখে দোকানের নামটি নির্ধারণ করার চেষ্টা করবেন।
আপনার অবস্থান অথবা যেকোন স্থানের নাম দিয়েও আপনার দোকানের নামটি রাখতে পারেন। এই পদ্ধতিটিও গ্রাহকদের খুব সহজে মনে রাখা সম্ভব হয়। একটি কথা মনে রাখতে হবে আপনার ব্যবসার ধরন, নির্ধারিত গ্রাহক এবং ব্যবসায়িক লক্ষ্যের সাথে সম্পর্কিত রেখে আপনাকে নামটি নির্বাচন করতে হবে।
মুদির দোকান শুরু করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
মুদির দোকান শুরু করার প্রয়োজনে কাগজপত্র সম্পর্কে আগে থেকেই আপনাকে জানতে হবে। এই বিষয়গুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কাগজপত্র সঠিক না থাকলে ব্যবসা করার সময় আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। এখন আসুন জেনে নেওয়া যায় কোন কোন কাগজপত্র মোদির দোকান শুরু বা পরে কাজে লাগবে-
- আপনার ব্যবসার দোকানের পছন্দের নামটির ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে। এটি মূলত আপনার পছন্দের নামটি অন্য কোথাও ব্যবহার হয়নি তার একটি দলিল। অনলাইনের সাহায্য নিয়ে আপনি যদি মনে করেন যে আপনার নামটা কোথায় ব্যবহার হয়নি তাহলে আপনি যৌথমূলধন কোম্পানি ও কর্মসমূহের পরিদপ্তর (আরওজেএসসি)-এ একটি ফি প্রদান করে আবেদন করতে হবে। তারা অনুমোদন দিলে সেই পত্রটি প্রিন্ট করে রাখুন।
- মেমোরান্ডাম অফ অ্যাসেসিয়েশন (এমওএ)-এর একটি অনুমোদনপত্র থাকতে হবে। এটি মূলত আপনার দোকানের বাহ্যিক কার্যাবলী পরিচালনা করে এবং আপনার দোকান আর্টিকেন্স অফ অ্যাসোসিয়েশনের পরিপূরক তা বর্ণনা করে।
- আর্টিকেন্স অফ অ্যাসোসিয়েশন (এএ)-এর অনুমোদনপত্র থাকতে হবে। এতে আপনার দোকানের অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক লক্ষ্যকে বর্ণনা করে।
- আপনার দোকানের একটি নির্দিষ্ট সীল প্রয়োজন হবে।
- সিটি কর্পোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদ অথবা আপনার দোকানের স্থানের পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক একটি ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে।
- জাতীয় রাজস্ব বিভাগের অধীনে ভ্যাট, এক্সাইস এবং কাস্টম কমিশনের সাথে রেজিস্টার করুন। এতে মূলত আপনি যে স্থানে দোকান দিয়েছেন সেই স্থানের যথাযথ এনবিআর-এর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
মুদির দোকানে অনলাইন সার্ভিসসমূহ ব্যবহার
মুদির দোকানে অনলাইন সার্ভিসসমূহ ব্যবহার সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে। বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ, যেখানে বিভিন্ন কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আপনাকেও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে আপডেট করতে হবে। সেজন্য প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হতে অনলাইনের বিকল্প নেই। এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক অনলাইন সার্ভিসসমূহ সম্পর্কে-
- আপনার ব্যবসার জন্য একটি ফেসবুক পেইজ তৈরি করুন যেখানে আপনার বিভিন্ন পণ্য, সেবা, বিশেষ অফার, ছাড় ইত্যাদি সম্পর্কে গ্রাহকদের জানানো হবে
- অনলাইন সার্ভিস চালু করার জন্য আপনার দোকানের নামে অথবা অন্য কোন নামে মোবাইল অ্যাপস তৈরি করতে হবে। যে apps এর দ্বারা আপনি বিভিন্ন অর্ডার দিতে পারবেন।
- নিয়মিতভাবে গ্রাহকদের মেসেঞ্জার এর মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে আপনার দোকানের বিভিন্ন ছাড়, অফার, বিশেষ পণ্য ইত্যাদি সম্পর্কে জানাতে হবে।
- দোকানের জন্য একটি ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট তৈরি করতে হবে যেখানে পড়বেন নাই পণ্যের বিভিন্ন ছাড়, অফার এবং অন্যান্য পণ্য সম্পর্কে জানাতে হবে।
- পণ্য ক্রয়ের পরে মূল্য মূল্য পরিষদের ক্ষেত্রে বর্তমানে অনলাইনে বিভিন্ন গেটে ব্যবহার করা হয়। সেসব গেটওয়ে বা ব্যবস্থা আপনার দোকানে থাকতে হবে।
- অনলাইনে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করুন যেখানে আপনার দোকানের বিভিন্ন পণ্যের অফার, ছাড় এবং বিশেষ পণ্যের তথ্য দেওয়া হবে।
- আপনি যদি অনলাইন সম্পর্কে অতীত দুঃখ হয়ে থাকেন তাহলে আপনি ইচ্ছে করলেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন যেখানে আপনার দোকানে বিভিন্ন তথ্য দিতে পারেন।
কয়েকটি ধাপসমুহ মুদির দোকান শুরু করার
কয়েকটি ধাপসমুহ মুদির দোকান শুরু করার পুর্বেই আপনাকে জেনে রাখা প্রয়োজন। শুধু কাগজে কলমে পরিকল্পনা করলেই হবে না সেই পরিকল্পনাটি কয়েকটি ধাপের সাহায্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কয়েকটি ধাপ সম্পর্কে-
- প্রথম ধাপঃ দোকানের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন।
- দ্বিতীয় ধাপঃ নিজেকে দেশের আইন ও নিয়ম কানুন সম্পর্কে তৈরি করুন।
- তৃতীয় ধাপঃ শুল্ক ফি জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ব্যাংকে যেয়ে জমা দেন।
- চতুর্থ ধাপঃ আপনার দোকানের রেজিষ্ট্রেশনের জন্য সকল কাগজপত্র আরজেএসসিতে জমা দিন।
- পঞ্চম ধাপঃ নির্ধারিত ওয়েবসাইতে যেয়ে আবেদন করতে হবে।
- ষষ্ঠ ধাপঃ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য আপনার দোকানের একটি সীল তৈরী করতে হবে।
- সত্তম ধাপঃ আপবেদন করার সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে আপনার লাইসেন্সটি নির্ধারিত পরিদপ্তর থেকে সংগ্রহ করুন।
- অষ্টম ধাপঃ নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আপনার ভ্যাট রেজিষ্ট্রেশনের কাগজ এনবিআর হতে সংগ্রহ করুন।
মুদির দোকানে লাভ বৃদ্ধির চমৎকার উপায়
মুদির দোকানে লাভ বৃদ্ধির চমৎকার উপায়গুলো নিয়ে আপনাকে পর্যালোচনা করতে হবে। সবার মত আপনিও নিশ্চয় আপনার দোকানের লাভ বৃদ্ধি করতে চাইবেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই কিছু ব্যতিক্রমধর্মী পন্থা অবলম্বন করতে হবে। যার দ্বারা গ্রাহক আপনার এবং আপনার দোকানের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এখন আসুন দোকানের লাভ বৃদ্ধির কয়েকটি টিপস সম্পর্কে জেনে নেই-
- টিপস-১ঃ আপনার দোকানের সকল কাগজপত্র এবং লাইসেন্স হালনাগাদ করে রাখতে হবে। অনেক সময় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা তদন্তে আসে। সে সময় আপনার কাগজপত্র হালনাগাদ না থাকলে তারা সমস্যার সৃষ্টি করে। ফলে গ্রাহকের আসা-যাওয়া কমে যাবে।
- টিপস-২ঃ প্রথমেই আপনাকে দেশের বিভিন্ন আইন-কানুন ও দোকানের কিছু নিয়মকানুন সম্পর্কে ভালোভাবে সচেতন হতে হবে, কারণ একবার আপনার দোকান আইনি জটিলতায় পড়লে গ্রাহকের আসা যাওয়া কমে যাবে ফলে লাভ কমে যাবে।
- টিপস-৩ঃ আপনার ব্যক্তিগত বার্তা আপনার গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে হবে। এই বার্তাটি তৈরি করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে বার্তাটি যেন স্থানীয় লোকদের অনুভূতি, কেনাকাটার অভ্যাস এবং পছন্দের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
- টিপস-৪ঃ গ্রাহকদের জন্যই ব্যতিক্রমধর্মী কিছু অনুভূতি সৃষ্টি করার কৌশল যোগ করার চেষ্টা করুন। যেমন আপনার দোকানের পাশে চা, কফি, রেস্টুরেন্টের মত কিছু দোকানের ব্যবস্থা করলে গ্রাহকরা কেনাকাটা শুরুর আগে অথবা শেষে সেখানে খেতে পারে। ফলে লাভের পরিমাণও বাড়বে সাথে সাথে গ্রাহকের সংখ্যাও বাড়বে।
- টিপস-৫ঃ গ্রহকদের আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য সম্ভব হলে গ্রাহকের পছন্দের পণ্যটির পেছনের কিছু গল্প বলুন। ফলে গ্রাহকটির সেই গল্পটি অন্য গ্রাহকে বললে আপনার দোকানের প্রতি আকর্ষণ বাড়বে এবং গ্রাহকের সংখ্যা বাড়বে সাথে সাথে লাভও বাড়বে।
- টিপস-৬ঃ আপনার দোকানের কর্মচারীদেরকে পণ্য সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞান দিতে হবে, যেন গ্রাহকরা তাদের ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা বোধ করে।
- টিপস-৭ঃ আপনার দোকানে গ্রাহক উপস্থিতি বাড়াতে হলে কূপন এবং কিছু কিছু পণ্যের জন্য বিশেষ অফারের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে এতে যেন নিজের লস না হয়।
- টিপস-৮ঃ গিগ অর্থনীতি নিয়োগ কারীদের কর্মীদেরকে চুক্তিভিত্তিক একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগ দেওয়া হলে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ আউটপুট পাওয়া সম্ভব হয়। এতে সার্বক্ষণিক কর্মচারীদের রাখার বেতন কমে যাবে এবং লাভের পরিমাণ বেড়ে যাবে।
- টিপস-৯ঃ গ্রাহকদের ব্যক্তিগত সেবা প্রতি আপনার সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সেজন্য আপনাকে প্রথমে সব কাজগুলো ভালোভাবে বুঝতে হবে। পরে সে অনুযায়ী আপনার কর্মীদেরকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে।
- টিপস-১০ঃ সর্বদা নিজেকে একজন গ্রাহক হিসেবে কল্পনা করতে হবে এবং সে অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য মজুদ করতে হবে। পণ্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে গ্রাহকের সাথে কখনোই রাগারাগি করা যাবে না। এতে গ্রাহকের পরিমাণ কমে যায় ফলে লাভও কমে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে।
মুদির দোকান শুরু করার আইডিয়া সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য
মুদির দোকান শুরু করার আইডিয়া সম্পর্কে আমি আপনাদের একটি কথা বলব এই ব্যবসার সব থেকে বড় শত্রু বাকি। সেজন্য আপনাকে অবশ্যই এই বাকি দেওয়ার প্রবণতাটিকে কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর সেটি যদি আপনি না পেরে থাকেন তাহলে আপনার মূলধন আস্তে আস্তে সেদিকে চলে যাবে এবং আপনার দোকানের পণ্য আস্তে আস্তে কমে যাবে। ফলে ক্রেতাও আস্তে আস্তে কমে যাবে।
আমি এই পোস্টে আপনাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি মুদির দোকান শুরু করার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়গুলোর উপর বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখতে হবে এবং কোন কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে। আমি বিশ্বাস করছি আপনারা পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সময় নিয়ে পড়েছেন। এই পোস্ট যদি আপনাদের স্বপ্ন পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে তাহলে আমার পোস্টটি সার্থক হবে।
আপনার যদি অনেক দিনের স্বপ্ন থাকে ছোটখাটো একটি মুদির দোকান শুরু করতে তাহলে আমি আশা করি আমার এই পোস্টটি পড়ে আপনি উপকৃত হবেন এবং আপনার স্বপ্ন পূরণের জন্য সচেষ্ট হবেন। আজ এই পর্যন্তই ভবিষ্যতে এই পোস্টের কোন আপডেট অথবা নতুন কোন পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব।
সে পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন এবং নিজের স্বপ্ন পূরণে নিজেকে তৈরি করবেন। ধন্যবাদ সবাইকে..........
অজানা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url