OrdinaryITPostAd

পুরুষ ও মহিলাদের মেথি খাওয়ার গোপন উপকারিতা-নিয়ম

পুরুষ ও মহিলাদের মেথি খাওয়ার গোপন উপকারিতা ও নিয়ম সম্পর্কে আপনি যদি জানতে চান তাহলে আমারে পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সময় নিয়ে পড়ুন। আমার এই পোস্টটিতে আমি মেথির বিভিন্ন উপকারিতা এবং খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করব।

ছবি-১

আমরা অনেকেই আছি যারা সামান্যতেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। অথচ যার সমাধান আমাদের আশেপাশেই প্রাকৃতিকভাবে রয়েছে। মেথি তেমনই একটি প্রাকৃতিক এবং সহজলভ্য ভেষজ উপাদান, যা পুরুষ ও মহিলাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

এই পোস্টে যা যা থাকছেঃ পুরুষ ও মহিলাদের জন্য মেথি খাওয়ার গোপন উপকারিতা

পুরুষ ও মহিলাদের জন্য মেথির পরিচিতি

পুরুষ ও মহিলাদের জন্য মেথির পরিচিতি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। মেথি এমন এক ধরনের খাদ্য উপাদান যা, বিভিন্নভাবে বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা হয়। মেথির সবুজ পাতা অনেক সময় শাক হিসেবে খাওয়া যায়। তবে আমাদের মধ্যে অনেকেই এমন আছে যারা নিয়মিত বিভিন্ন তরকারিতে মেথি ব্যবহার করে থাকে। সেটা জেনে হোক আর না জেনেই হোক।

এটি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ায় ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়। এই মেথি আমাদের দেশ এবং পার্শ্ববর্তী দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। সাধারণত হিন্দি, গুজরাটি, মারাঠি, বাংলা এবং পাঞ্জাবি ভাষায় একে মেথি বলা হলেও এর প্রকৃত সাংস্কৃতিক নাম হচ্ছে মেথিকা। 

এটি কন্নড় ভাষায় মেন্টিয়া, তেলেগুতে মেন্টুলু, তামিলে ভেন্ডায়ম, মালয়ালম ভাষায় ভেন্তিয়াম, ইংরেজীতে ফেনুুগ্রিক এবং ল্যাটিন ভাষায় ট্রিগোনেলা ফোয়েনাম গ্রিকাম নামে পরিচিত। মেথির বীজের মতো মেথি পাতাও বিভিন্ন খাবার ও ঔষধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সেজন্যই ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ায় শত শত বছর ধরে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা চিকিৎসায় ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

পুরুষ ও মহিলাদের মেথির পুষ্টি গুণাগুণ

পুরুষ ও মহিলাদের মেথির পুষ্টি গুণাগুণ জানা আপনার জন্য একান্ত জরুরী। মেথির বীজ খুব ছোট্ট এবং সোনালী রঙের কিন্তু এই বীজের অনেক গুণাগুণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, আয়রন ইত্যাদি পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে। 

এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান থাকায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এতে ডায়োসজেনিন, নামক একটি যৌগ রয়েছে যা, ইস্ট্রোজেন সেক্স হরমোন বাড়াতে কাজ করে। ইহা টেস্টোস্টেরনের মাত্রা উন্নত করা থেকে শুরু করে ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণের মত আরো অসংখ্য কাজ করে থাকে। এটি শুধু ওষুধ হিসাবে ব্যবহার হয় না বিভিন্ন রান্নার মূল উপাদান হিসেবেও ব্যবহার হয়। 

মেথি খেতে সাধারণত তিক্ত স্বাদযুক্ত কিন্তু ইহা বিভিন্ন রান্নার তরকারিতে দেওয়া হলে তার স্বাদ খুব মজাদার হয়ে যায়। এটি কার্বোহাইড্রেট এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের একটি ভালো উৎস। সাধারণত প্রতি ১০০ গ্রাম মেথির বীজে প্রায় ২৩ গ্রাম প্রোটিন, ৫৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ২৫ গ্রাম ফাইবার থাকে, যা হজমের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হিসেবে কাজ করে। এতে উপস্থিত ডায়েটারি ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

ক্রমিক নং উপাদান মাত্রা (প্রতি ১০০ গ্রামে)
পানি ৮.৮৪ গ্রাম
প্রোটিন ২৩.০০ গ্রাম
মোট লিপিড ৬.৪১ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট ৫৮.৩৫ গ্রাম
তন্তু ২৪.৬০ গ্রাম
লোহা ৩৩.৫৩ গ্রাম

ডায়াবেটিস রোগীদের মেথি খাওয়ার উপকারিতা

ডায়াবেটিস রোগীদের মেথি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। প্রকৃতির কয়েকটি আশীর্বাদের মধ্যে মেথি একটি উপাদান যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। মেথিতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, আপনি যদি প্রতিদিন ১০ গ্রাম মেথি খেয়ে থাকেন তাহলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে এবং শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতাও বাড়ে। এটি খাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে এক চামচ মেথি আধা ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে সেই পানিসহ মেথিটি খেয়ে নিন।

এছাড়াও আপনি ইচ্ছা করলে মেথি দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন। এই চায়ের মধ্যে আদা ও দারুচিনি যোগ করলে এর উপকারিতা আরো বেড়ে যায়। মেথি সাধারণত খালি পেটে এবং চিবিয়ে খেলে অতি তাড়াতাড়ি অধিক উপকার পাওয়া সম্ভব। তবে যারা নিয়মিত ডায়াবেটিসের ওষুধ খায় তাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী মেথি খাওয়া উচিত।

গ্যাস্টিকের জন্য মেথি খাওয়ার উপকারিতা

গ্যাস্টিকের জন্য মেথি খাওয়ার উপকারিতা অপরিসীম। যাদের দীর্ঘদিন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য মেথির বীজ প্রকৃতির একটি অনবদ্য আশীর্বাদ। এটির ক্ষেত্রেও প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানির সাথে মিশিয়ে অথবা চিবিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, কোন ব্যক্তি ছয় সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সকালে ও রাতে মেথি ভেজানো পানি পান করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। আপনার যদি গোটা মেথি খেতে অসুবিধা হয় তাহলে মেথি পেস্ট করে ভাতের সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন, যা সহজে খাওয়া যায়।

এরপরও মেথির পানি ও মেথি খেতে সমস্যা হয় তাহলে সেই পানির স্বাদ বাড়ানোর জন্য পরিমাণমতো মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে পানিটি পান করতে পারেন। ফলে এই পানির উপকারিতা আরো বেড়ে যাবে। মেথি যেহেতু ধীরে কাজ করে তাই মেথি খাওয়ার উপকারিতা আনুমানিক ছয় মাস পরে দৃশ্যমান হবে।

চুল ও ত্বকের যত্নে মেথি খাওয়ার উপকারিতা

চুল ও ত্বকের যত্নে মেথি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানলে অনেক সময় আপনারও কাজে লাগতে পারে। আপনার যদি চুল পড়ার মাত্রা বেশি হয় তাহলে মেথি ব্যবহার করলে চুল পড়া বন্ধ হবে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, মেথি বীজে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে যা, চুলের জন্য একটি প্রয়োজনীয় উপাদান।

এছাড়াও মেথিতে লেসিথিন পাওয়া যায়, যা চুলকে ময়েশ্চারাইজ করার পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে মজবুতকারী হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও মেথি গুঁড়ো করে ভিজিয়ে চুলে মেখে কিছুক্ষণ রাখার পরে ধুয়ে ফেললে আস্তে আস্তে চুলের খুশকি দূর হয়ে যায়।

শুধু চুলে নয় ত্বকের যত্নেও মেথির উপকারিতা লক্ষ্য করা যায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে মেথিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-রিঙ্কেল, ময়েশ্চারাইজিং এবং ত্বক মসৃণ করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বককে সতেজ ও মোলায়েম করে, ফলে ত্বক সুন্দর দেখায়।

পুরুষদের মেথি খাওয়ার উপকারিতা

পুরুষদের মেথি খাওয়ার উপকারিতা একান্ত জরুরী। এমন অনেক পুরুষ আছে যাদের যৌন সমস্যা রয়েছে। ফলে তারা বৈবাহিক জীবনে ঠিকমতো কোন কাজ করতে পারে না এবং সংসারে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। মেথি পুরুষদের সেক্স হরমোন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।

ফলে পুরুষদের যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং শক্তি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও স্বপ্নদোষ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে মেথি কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। আপনার যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আপনি চাইলেই এই ছোট্ট দানা মেথির পাশাপাশি গাঁজানো রসুন, মধু, আলুবোখারা ও রসুনের আচার খেতে পারেন।

মহিলাদের মেথি খাওয়ার উপকারিতা

মহিলাদের মেথি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে অবশ্যই মেয়েদেরকে জানতে হবে। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের শারীরিক সমস্যা বেশি হয়ে থাকে সেজন্য পুরুষদের থেকেও মহিলাদের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বা উপকারিতা অনেক বেশি। এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক মহিলাদের ক্ষেত্রে মেথি খাওয়ার কোন কোন উপকারিতা রয়েছে-

  • হরমোনাল ভারসাম্য রক্ষার্থেঃ মেথি মেয়েদের হরমোনাল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে ডাইওজেনিন নামক ও প্রাকৃতিক যৌগ উপাদান রয়েছে, যা নারীদের শরীরে ইষ্টোজেন উৎপাদনকে বৃদ্ধি করে। এটি পিরিয়ডের অনিয়ম দূর করতে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে মেনোপজের লক্ষণ কমাতে সাহায্য করে।
  • পিরিয়ডের ব্যথা ও অস্বস্তি দূরকরাতেঃ মেথি মেয়েদের পিরিয়ডের সময় হওয়া ব্যথা বা ক্র্যাম্প কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি এবং পেইন রিলিভিং উপাদান মেয়েদের পিরিয়ডের অস্বস্তি এবং পেটের ব্যথা কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
  • বাচ্চাদের স্তন্যদানের সময় দুধের উৎপাদন বৃদ্ধিতেঃ বাচ্চাদের দুধ দানকারী মায়েদের দুধের উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে মেথির বিশেষভাবে সাহায্য করে। এতে থাকা গ্যালাক্টাগোগ নামক যৌগ উপাদান বুকের দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করে, যা নবজাতকের পুষ্টি নিশ্চিত করে।
  • ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেঃ মেথি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি গুণে সমৃদ্ধ, যা ত্বকের ব্রণ, কালো দাগ এবং র‌্যাশ কমাতে সাহায্য করে। মেথির পেস্ট বা মেথি পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি ত্বকের জন্য টোনার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
  • প্রজনন স্বাস্থ্য বৃদ্ধি করতেঃ মেথি প্রাকৃতিকভাবে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য বৃদ্ধি করে। এটি ডাইওজেনিন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমে প্রজনন সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সহায়তা করে। তবে সাথে গাঁজানো রসুন ও মধু থাকলে আরো ভালো কাজ করে।
  • পিসিওএস ব্যবস্থাপনায় কাজ করতেঃ মেথি পলিসিষ্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিসিওিএস) ব্যবস্থাপনা সহায়তা করে। এটি শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং ওভারির হরমোনাল ভারসাম্য বজায় রাখে।
  • প্রসবজনিত সমস্যা সমাধানেঃ বৈজ্ঞানিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, জরায়ু সংকোচন এবং প্রসারণ এর যন্ত্রণা কমাতে মিথির অবদান অনেক। তবে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া মেথি খাওয়া ঠিক নয় কারণ ইহা অনেক সময় গর্ভপাতে সহায়তা করে।

হজম শক্তি বৃদ্ধিতে মেথির উপকারিতা

হজম শক্তি বৃদ্ধিতে মেথির উপকারিতা অতুলনীয়। খুব সহজ উপায়ে দেহে হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে মেয়েটির দারুন ভূমিকা রয়েছে। আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন মেথিতে প্রচুর পরিমাণে ভালো মানের ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা বাওয়েল মুভমেন্টে উন্নতি করে হজমকে অনেক সহায়তা প্রদান করে।

ছবি-২

এটি হজমশক্তি বৃদ্ধির সাথে সাথে অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক এবং বদহজম দূর করতে সাহায্য করে। মেথির সাথে আপনারা যদি গাঁজানো রসুন, মধু ও হলুদ খান তাহলে হজমশক্তির পরিমান আরো অনেকাংশে বেড়ে যায়। তবে এটি একদিন দুইদিন খেলেই ফলাফল আশাকরা ভুল হবে। ফলাফল পেতে গেলে কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত সেবন করতে হবে।

রক্তে কোলেস্টরেল ও শর্করার মান নিয়ন্ত্রণে মেথির উপকারিতা

রক্তে কোলেস্টরেল ও শর্করার মান নিয়ন্ত্রণে মেথির উপকারিতা লক্ষ্যকরার মতো একটি বিষয়। মেথিতে থাকা স্টেরিওডাল সেপোনিনস নামক উপাদান শরীরে থাকা কোলেস্টেরলর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে প্লেকটোম্যানান নামক আরেকটি উপাদানের খোঁজ পাওয়া যায়, যা হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

মেথিতে থাকা পটাশিয়াম রক্তে লবণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে সাহায্য করে যার কারণে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রায় আপনি যদি নিয়মিত মেথি ভেজানো পানি পান করেন তাহলে হঠাৎ করে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের মত সমস্যার মাত্র অনেকাংশে কমে যাবে।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে মেথি একটি দারুন প্রাকৃতিক উপাদান। মেথিতে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করা শোষণ প্রক্রিয়া ধীর করে এবং ইনসুলিন এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে, যা ডাইবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সেজন্য ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মেথির গুঁড়ো অথবা মেথি মিশ্রিত পানি নিয়মিতভাবে প্রতিদিন পান করা উত্তম।

পুরুষ ও মহিলাদের ওজন কমাতে মেথির উপকারিতা

পুরুষ ও মহিলাদের ওজন কমাতে মেথির উপকারিতা সম্পর্কে আপনার নিশ্চয় অজানা রয়েছে। বর্তমানে নারী এবং পুরুষ উভয়ই নিজের শরীরের ওজন সম্পর্কে সচেতন। এমন অনেকে আছে যারা খেতেও পছন্দ করে আবার ওজনও কমাতে চায়। এটি করা অসম্ভব তবে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনি নিজের শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

এরমধ্যে মেথি একটি উপাদান হতে পারে যা আপনার শরীরের মেদ জমতে বাধা দিতে কাজ করবে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভালো ফাইবার পাওয়া যায় যা আপনার খাদ্য হজমের পাশাপাশি খুদা নিবারণে কাজ করবে। ফলে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এছাড়াও মেথিতে বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল পাওয়া যায়, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে মেথির উপকারিতা

ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে মেথির উপকারিতা সম্পর্কে আপনি নিশ্চয় জানেন না। আমরা জানি ক্যান্সার একটি মারাত্মক রোগ, তাই এই রোগেকে এড়িয়ে চলায় উক্তম। একটি চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে যে, মেথির একটি গুণ রয়েছে যা, হরমোন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

মেথি শরীরের ইষ্ট্রোজেন উপাদানে বাধা দিয়ে টেষ্টোষ্টেরনের মাত্রা বাড়ায়। পুরুষের শরীরে এটির বৃদ্ধির কারণে বেশি গুলো বিকাশ হয় এবং শারীরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে ইহা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, যা প্রকৃতির একটি বড় নিয়ামত। ফলে আপনি মেথি নিয়মিত খেলে অন্যান্য উপকারিতার পাশাপাশি দুরারোগ্য ব্যাধি প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকবেন।

পুরুষ ও মহিলারা মেথি কখন ও কিভাবে ব্যবহার করবেন

পুরুষ ও মহিলাদের মেথি কখন ও কিভাবে ব্যবহার করবেন তা অবশ্যই পরিষ্কারভাবে জানতে হবে। মেথি যখন তখন অথবা যেকোনোভাবে ব্যবহার করলেই হবে না তার কিছু নিয়ম ও সময় রয়েছে। আপনি যদি সঠিক নিয়ম এবং সময় অনুসরণ না করেন তাহলে এর থেকে উপকারিতা পেতে সময় লাগবে। এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক কখন ও কিভাবে মেথি ব্যবহার করতে হয়-

  • প্রথমেই এই বীজকে হালকা হিটে ১ থেকে ৩ মিনিট ভেজে নিন। পরে এটি সবজি বা সালাদের উপরে ছিটিয়ে দিয়ে দুপুরের অথবা রাতের খাবারের ব্যবহার করুন।
  • এক চা চামচ মেথি দানা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন এবং পরেরদিন সকালে এক গ্লাস পানির সাথে পান করে নিন। এতে অবশ্যই প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। খালি পেটে এই কাজটি করলে উপকারিতা দ্রুত পরিলক্ষিত হয়।
  • মেথিদানা সারারাত জলে ভিজিয়ে রাখার পর কাপড়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখুন। এভাবে কয়েকদিন রাখলেই মেথির অংকুর ফুটবে। এরপর সেই অঙ্কুরিত মেথি সকালে খেতে পারেন।
  • মেথির শাকের পরোটা এবং রুটি তৈরি করে ইচ্ছে করলে আপনি খেতে পারেন। এই পরোটাটি সকালের নাস্তার সাথে খেতে পারলে উত্তম।
  • মেথির বীজের ভেষজ চা পান করতে পারেন। গরম পানিতে মেথি দানা দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে ধীরে ধীরে পান করুন। ভালো স্বাদের জন্য এতে লেবু ও মধু যোগ করতে পারে। এই চা টি সকাল এবং সন্ধ্যায় পান করতে পারেন।
  • মেথির বীজ গুঁড়ো করে তরকারি, সালাদ, স্যুপ ইত্যাদিতে মিশিয়ে মিশিয়ে খেতে পারেন।


মেথি খাওয়ার কয়েকটি সঠিক নিয়ম

মেথি খাওয়ার কয়েকটি সঠিক নিয়ম আপনাকে জানা প্রয়োজন। বিভিন্ন উপায়ে বা নিয়ম অবলম্বন করে মেথি খাওয়ার যায়। মেথি খাওয়ার সঠিক নিয়মটি নির্ভর করবে আপনার পছন্দের উপর। অর্থাৎ আপনি যদি শুধুমাত্র মেথি খেতে পারেন তাহলে সবচেয়ে ভালো। আর যদি না খেতে পারেন তাহলে কয়েকটি পন্থা অবলম্বন করতে পারেন সেগুলো হল-

  • এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে এক চামচ গোটা মেথি ১০ মিনিট ভিজিয়ে মেথিসহ পানি খেয়ে ফেলুন। এক্ষেত্রে আপনার যদি খেতে সমস্যা হয় তাহলে স্বাদ বৃদ্ধির জন্য লেবুর রস ও মেথি মিশিয়ে খেতে পারেন।
  • একটি বড় বাটিতে পানি নিয়ে তাতে দুই চামচ মেথি দানা দিয়ে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন এবং সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে পানিটা ছেঁকে পান করুন।
  • এক চামচ মেথি দানা তেল ছাড়া শুকনো করাইয়ে ভেজে নিন এবং পরে তা গুড়ো করে নিন। এক গ্লাস হালকা গরম পানির সাথে এই মেথি পাউডারটি মিশিয়ে সকালবেলা খালি পেটে পান করুন।

পুরুষ ও মহিলাদের জন্য মেথি খাওয়ার অপকারিতা

পুরুষ ও মহিলাদের জন্য মেথি খাওয়ার অপকারিতা আপনাদের অবশ্যই জানা উচিত। তিক্ত স্যার যুক্ত ছোট্ট মেথির দানার গুণাগুণ ও উপকারিতা অনেক রয়েছে তবে এর কিছু অপকারিতাও রয়েছে এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক মেথির কয়েকটি অপকারিতা সম্পর্কে-

  • যেহেতু মেথির স্বাদ তিক্ত ও দানাটি শক্ত সেহেতু এর রস আপনি প্রথমে খেলে হয়তো বমি বমি ভাব হতে পারে। এছাড়াও মেথির অতিরিক্ত গন্ধের কারণে আপনিও হয়তো পছন্দ করবেন না।
  • একটানা বেশ কয়েকদিন মেয়েটি খেলে শরীরে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হতে পারে, যা আপনাকে ধৈর্য সহকারে মেনে নিতে হবে।
  • গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে মেথি এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ গর্ভবতী মহিলারা বেশি মেথি খেলে বাচ্চার জন্মগ্রহণ সময়ের আগেই সম্পন্ন হতে পারে যা একটি সমস্যার কারণ। 
  • মেথির ব্যবহারে ব্লাডে সুগারের পরিমাণ কমে যায়। ফলে দ্রুত ভালো ফলাফল পাওয়ার আশায় অতিরিক্ত পরিমাণে মেথি খেলে রক্তে সুগারের পরিমাণ অনেক কমে যায় যার কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

মেথি খাওয়ার গোপন উপকারিতা ও নিয়ম সম্পর্কের লেখকের মন্তব্য

মেথি খাওয়ার গোপন উপকারিতা ও নিয়ম সম্পর্কে বলতে গেলে একটি কথায় বলতে হয়, যে এই বীজটি ছোট কিন্তু এর গুণাগুণ অনেক বেশি, যা আমি ইতিমধ্যে এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। উপকারিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে যেমন বোঝানোর চেষ্টা করেছি তেমন ক্ষতিকারক দিক নিয়েও বোঝানোর চেষ্টা করেছি।

এর যেসব উপকারিতার কথা এই পোস্টে বর্ণনা করা হয়েছে সেগুলো পেতে হলে অন্ততপক্ষে ৮ সপ্তাহ প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এটি খেতে হবে। এসময় মেথি খেলেই আপনি এর থেকে সর্বোচ্চ উপকারিতা পেতে পারবেন। তবে একটি কথা মনে রাখবেন প্রতিদিন ১ থেকে ১.৫ চামচের বেশি মেথি বীজ কখনোই খাবেন না। 

ছবি-৩

যদি গুঁড়ো খেয়ে থাকেন তাহলে এক চামচের বেশি গুঁড়ো খাবেন না। তাই আপনি যদি মনে করেন, এই উপকারী বীজটি আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজন তাহলে আর দেরি না করে এখনই আপনার দৈনন্দিন রুটিনে মেথিকে অন্তর্ভুক্ত করেন। একটি কথা মনে রাখবেন পরিমিত আকারে নিয়মিত খেলেই আপনি এর ফল ভোগ করতে পারবেন। 

আশা করি এই পোস্টটি আপনাদের অনেক কাজে লাগবে এবং আপনাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। আজ এই পর্যন্তই, ভবিষ্যতে এই পোস্টের কোন আপডেট অথবা নতুন কোন পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব। ততদিন মেথিকে অবশ্যই দৈনন্দিন মেনুতে অন্তত করবেন।


সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে........

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অজানা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url