ভিটামিন সি তে ঠাসা কামরাঙ্গার উপকারিতা
ভিটামিন সি তে ঠাসা কামরাঙ্গার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানার জন্য আপনি যদি উদগ্রীব হয়ে থাকেন তাহলে আপনার আকাঙ্ক্ষাকে শীতল করতে আমি আপনাদের মাঝে এই পোস্টটি নিয়ে হাজির হলাম। আশা করি এই পোস্ট থেকে আপনি কামরাঙ্গা সম্পর্কে একটি পূর্ণ ধারণা পাবেন।
কামরাঙ্গা একটি পরিচিত ফল যা সবাই চিনে। তবে কামরাঙ্গার মধ্যে কোন কোন ভিটামিন বেশি থাকে বা এর উপকারিতা ও অপকারিতা কি কি সে সম্পর্কে আপনার মত অনেকেরই কিছুটা অজানা রয়েছে। তাই আপনারা একটু সময় নিয়ে আমারে পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বেন।
এই পড়তে যা যা থাকছেঃ ভিটামিন সি তে ঠাসা কামরাঙ্গার উপকারিতা
- ভিটামিন সি তে ঠাসা কামরাঙ্গার পরিচিতি
- ভিটামিন সি তে ঠাসা কামরাঙ্গার পুষ্টিগুণ
- কামরাঙ্গা খাওয়ার সঠিক নিয়ম
- শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কামরাঙ্গা
- কামরাঙ্গা ত্বকের সুন্দর্যতা বৃদ্ধি করতে
- হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে কামরাঙ্গার ভূমিকা
- কামরাঙ্গা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে কার্যকারিতা
- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে
- কামরাঙ্গা মরণব্যাধি ক্যান্সারের প্রতিরোধক হিসেবে
- শরীরের দুর্বলতা ও ক্লান্তি দূর করতে কামরাঙ্গা
- কামরাঙ্গা আরো কয়েকটি সাধারণ উপকারিতা
- ভিটামিন সি তে ভরপুর কামরাঙ্গার অপকারিতা
- কামরাঙ্গার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য
ভিটামিন সি তে ঠাসা কামরাঙ্গার পরিচিতি
ভিটামিন সি তে ঠাসা কামরাঙ্গার পরিচিতি সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় এটি গ্রাম বাংলার একটি খুব পরিচিত এবং সহজলভ্য ফল। এই ফলটি সাধারণত হালকা টক স্বাদযুক্ত তবে অনেক সময় মিষ্টিও হয়ে থাকে। এটি খেতেও খুব রসালো। সাধারণত গ্রাম বাংলার বিভিন্ন বাগান ও বাড়ির আঙিনায় বা আশেপাশে এই গাছগুলো প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়।
ঔষধি গুণাবলীর জন্য এটি আয়ুর্বেদ ও হারবাল চিকিৎসায় প্রায়ই ব্যবহার করা হয়।
কামরাঙ্গা শুধু সুস্বাদু একটি ফল নয়, এটি একটি স্বাস্থ্যকর ও উপকারী ফল, যা
প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখা হলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন যারা
কিডনি সমস্যায় ভুগছেন, তাদের খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া
প্রয়োজন।
এই ফলটির রং এবং তার বাহিরের আবরণ দেখতে চমৎকার এবং আকর্ষণীয়। সেজন্য অনেক
সময় বিভিন্ন খাবার পরিবেশনার ক্ষেত্রে এটিকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই ফলটি
মূলত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে প্রচুর
পরিমাণে জন্মে। কাঁচা কামরাঙ্গার রং সাধারণত সবুজ এবং পাকা কামরাঙ্গার রং সাধারণত
হলুদ হয়ে থাকে। দুই অবস্থাতেই স্বাদ একই রকম থাকার কারণে দুই অবস্থাতেই এটিকে
খাওয়া যায়।
ভিটামিন সি তে ঠাসা কামরাঙ্গার পুষ্টিগুণ
ভিটামিন সি তে ঠাসা কামরাঙ্গার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে। কামরাঙ্গা টক জাতীয় একটি ফল যা সাধারণত কাঁচা এবং পাকা উভয় অবস্থাতে খাওয়া সম্ভব। এটি সাধারণত খুব কম ক্যালরিযুক্ত একটি ফল। একটি মাঝারি সাইজের কামরাঙ্গায় আনুমানিক ২৮ ক্যালরি থাকে।
তবে এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এছাড়াও এতে অন্যান্য যেসব উপাদান থাকে আসুন সে সম্পর্কে এখন জেনে নেওয়া যাক-
ক্রমিক নং | পুষ্টিউপাদান | প্রতি ১০০ গ্রামের মধ্যে | দৈনিক চাহিদা পূরনের হার |
---|---|---|---|
১ | কার্বোহাইড্রেট | ৬.৭৩ গ্রাম | ২.৫০ % |
২ | চিনি | ৩.৯৮ গ্রাম | ২ % |
৩ | ফাইবার | ২.৮০ গ্রাম | ১০ % |
৪ | ফ্যাট | ০.৩৩ গ্রাম | ৩.৫০ % |
৫ | প্রোটিন | ১.০৪ গ্রাম | ২ % |
৬ | প্যানটোথেনিক এ্যাসিড | ০.৩৯ গ্রাম | ৮ % |
৭ | ফোলেট | ১২.০০ মাইক্রোগ্রাম | ৩ % |
৮ | ভিটামিন সি | ৩৪.৪০ মিলিগ্রাম | ৫২ % |
৯ | ফসফরাস | ১২.০০ মিলিগ্রাম | ২ % |
১০ | পটাশিয়াম | ১৩৩.০০ মিলিগ্রাম | ৩ % |
১১ | জিংক | ১.২০ মিলিগ্রাম | ৩ % |
১২ | ক্যালসিয়াম | ১১.০০ মিলিগ্রাম | ০.৩ % |
১৩ | খনিজ | ০.৪০ গ্রাম | ৭.৫০ % |
১৪ | ক্যালোরি | ৩১ | ১.৫০ % |
কামরাঙ্গা খাওয়ার সঠিক নিয়ম
কামরাঙ্গা খাওয়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে। এই ফলটি সাধারণত কাঁচা এবং পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। তবে এই ফলটিকে সাধারণত রান্না করে না খাওয়াই উত্তম সরাসরি কাঁচা অথবা পাকা খেলেই উপকারিতা ভালো পাওয়া যায়। আপনি যদি রান্না করে খান তাহলে আগুনের তাপে ভিটামিন ও অক্সিজেন নষ্ট হয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
ফলে আপনি কামরাঙ্গা থেকে যে পরিমাণ ভিটামিন ও পুষ্টি গুণাগুণ পেতেন তার পরিমান অনেকাংশে কমে যাবে। আপনি যদি সুস্থ এবং সবল দেহের অধিকারী হয়ে থাকেন তাহলে পরিমিত আকারে এই ফলটি খেতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন এটিকে কখনোই প্রতিদিনের খাদ্যের মেনুতে অন্তর্গত করবেন না।
দীর্ঘদিন একটানা না খেয়ে মাঝে মাঝে খাবেন এবং সেদিন কখনোই ২টির বেশি এবং খালি পেটে কামরাঙ্গা খাবেন না। এছাড়াও যারা কিডনি সমস্যায় ভূগছেন, গর্ভবতী মা ও দীর্ঘমেয়াদি কোন ওষুধ সেবন করেন তাদের এই ফলটি খাওয়ার আগে অবশ্যই একটি ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কামরাঙ্গা
শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কামরাঙ্গার ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। আপনার রক্তে যদি ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা বেড়ে যায় এবং উপকারী কোলেস্টেরলের (এইচডিএল) মাত্রা কমে যায় তাহলে আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যাবে। ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ধমনীর গায়ে জমে গিয়ে রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে, । যা আপনার হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ হতে পারে।
সেক্ষেত্রে আপনার হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকির পরিমাণ অনেকাংশে বেড়ে যায়। বৈজ্ঞানিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে ব্যক্তি কামরাঙ্গা খায় তার রক্তে উপকারী কোলেস্টরেলের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ক্ষতিকর কোলেস্টরেলের মাত্রা কমে যায়। এছাড়াও এতে থাকা ফাইবার ও অন্যান্য কার্যকর উপাদান এই সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কামরাঙ্গায় থাকা বিশেষ ফাইটোকেমিক্যাল উপাদান শরীরে
কোলেস্টেরল সংশ্লেষণ কমাতে সাহায্য করে। এটি আপনার লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত
করে, যা আপনার শরীর থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বের করে দেওয়ার কাজ করে। ফলে রক্তে
কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদপিণ্ড সুস্থ ও সবল থাকে।
কামরাঙ্গা ত্বকের সুন্দর্যতা বৃদ্ধি করতে
কামরাঙ্গা ত্বকের সুন্দর্যতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ পালন করে থাকে। আপনারা জানেন বর্তমানে দূষণ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপের কারণে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। যা ত্বকের উজ্জ্বলতা ও ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করে ত্বকের সৌন্দর্যতা নষ্ট করে।
এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য
করে। ফলে ত্বক টান টান ও সতেজ হয়ে থাকে। আরেকটি উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
থাকায় ইহা ফ্রী রেডিক্যালের ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। এটি ত্বককে বয়সের
ছাপ পড়া থেকে বিরত রাখে। এছাড়াও এতে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ই ত্বকের
আদ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
এছাড়াও এতে থাকা জিংক ও আয়রন ত্বকের টিস্যু গঠনে সহায়তা করে এবং নতুন কোষ
তৈরি করতে সাহায্য করে। কামরাঙ্গার রস মুখে লাগালে এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে
এবং ত্বককে মসৃণ উজ্জ্বল করে তোলে। বিশেষ করে আপনার যদি ত্বক তৈলাক্ত হয়ে থাকে
তাহলে এটি আপনার জন্য খুবই উপকার হবে কারণ এতে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ
করতে সহায়তা করে।
হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে কামরাঙ্গার ভূমিকা
হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে কামরাঙ্গার ভূমিকা অতুলনীয়। বর্তমানে আপনার মত অনেকেই এর সমৃদ্ধ ভাজাপোড়া খাবার এবং ভেজাল খাবারের উপর আকৃষ্ট হচ্ছে। যার ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের হজম জাতীয় সমস্যার বাসা বাঁধছে। সেজন্য আপনাকে মাঝে মাঝে খাবারের মেনুতে কামরাঙ্গাকে অন্তর্গত করতে হবে, যা আপনার হজমশক্তিকে বৃদ্ধি করবে।
এটি সাধারণত ভাইবার সমৃদ্ধ একটি খাবার, যা লিভারের কাজের গতি স্বাভাবিক রাখে এবং
সহজে খাবার হজম করতে সাহায্য করে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে
এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। ফলে তন্ত্রের বর্জ্য দ্রুত
অপসারণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এজন্যই শরীরে টক্সিন জমতে পারে না।
এর মধ্যে প্রোবায়োটিক বৈশিষ্ট্য থাকায় অন্তরের ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বেশি থাকলে হজম শক্তি ভালো হয় এবং খাদ্য খুব সহজেই পরিপাক হয়। এটি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত করতে পারবেন তখনেই যখন আপনার গ্যাসের অথবা অ্যাসিডিটির সমস্যা হবে।
এছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং পানির পরিমাণ বেশি থাকায় পরিপাকতন্ত্র
ভালো থাকে এবং শরীরেকে হাইডেটেড রাখে। আপনি লক্ষ্য করবেন অনেক সময়
অনেকে খাবার পর পানি খেতে ভুলে যায়। তবে আপনি যদি এই ফলটি খেয়ে থাকেন
তাহলে আপনার পানি শূন্যতা ও কমে যাবে এবং হজমজনিত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
কামরাঙ্গা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে কার্যকারিতা
কামরাঙ্গা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আপনারা জানলে অবাক হবেন কামরাঙ্গা এমন একটি ফল যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আপনারা আগেই জেনেছেন এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে, যা রক্তে
শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার হজমকে ধীরে গতি করে, ফলে
গ্লুকোজ আসতে আসতে রক্তে প্রবেশ করে এবং রক্তের শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে
যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়াও এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটোকেমিক্যাল
উপাদান ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
যখন আপনার শরীর ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা হারাবে তখন আপনার ডায়াবেটিসের
ঝুঁকি বাড়তে থাকবে। এই ফলের ডিটক্সিফাইং বৈশিষ্ট্য শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের
করে দেয় এবং বিপাক প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। ফলে লিভারের কার্যকারিতা বেড়ে
যায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
এই উপাদানটি শরীরের শ্বেত রক্তকণিকা উৎপাদনের সহায়তা করে, যা রোগ সৃষ্টিকারী
ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকে। এছাড়াও এতে থাকা
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিক্যাল শরীরের কোষগুলোর সুস্থতা বজায় রাখে
এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
আপনারা জেনেছেন কামরাঙ্গায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিংক এর মত গুরুত্বপূর্ণ
খনিজ পদার্থ বিদ্যমান থাকে। এই খনিজ পদার্থগুলো আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বৃদ্ধি করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেজন্য খাবারের মেনুতে মাঝে মাঝে
কামরাঙ্গাকে অন্তর্ভুক্ত করা একান্ত জরুরি।
কামরাঙ্গা মরণব্যাধি ক্যান্সারের প্রতিরোধক হিসেবে
কামরাঙ্গা মরণব্যাধি ক্যান্সারের প্রতিরোধক হিসেবে অনেক সময় কার্যকরী হয়ে থাকে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস, দূষণ, ভেজাল ইত্যাদির কারণে দিন দিন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কামরাঙ্গা একটি অন্যতম প্রাকৃতিক খাবার যা শরীরের ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এতে ফ্ল্যাভোনয়েড, পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং ক্যান্সার সৃষ্টির ঝুঁকি কমায়। এছাড়া এতে ভিটামিন সি আছে, যা কোষের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে ক্যান্সারের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। এটি শরীরের শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়ায়, যা বিভিন্ন রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
কামরাঙ্গায় ফাইটোকেমিক্যাল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে, যা দেহের কোষগুলোর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হচ্ছে ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। এক গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে প্রদাহ কমাতে পারলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সেজন্য নিয়মিত খাদ্যমেনুতে পরিমিত আকারে কামরাঙ্গাকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
শরীরের দুর্বলতা ও ক্লান্তি দূর করতে কামরাঙ্গা
শরীরের দুর্বলতা ও ক্লান্তি দূর করতে কামরাঙ্গার ভূমিকা অনেক রয়েছে। বর্তমানে দীর্ঘ সময় কাজ করা, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, অপুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ ইত্যাদির কারণে শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে কামরাঙ্গা একটি আদর্শ ফল হতে পারে। এই ফলের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকায় ইহা শরীরকে চাঙ্গা রাখতে ও ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে।
আপনারা আগেই জেনেছেন এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, যা শরীরে শক্তি
উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি আয়রনের শোষণ বাড়াতে
সাহায্য করে, যার রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ উন্নত করে এবং দেহের শক্তি বৃদ্ধি করে।
পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য রাখতে সহায়তা করে।
আপনারা জানেন শরীরে ক্লান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হলো শরীরে ইলেকট্রোলাইটের
ঘাটতি। এছাড়াও এতে ভিটামিন এ ও বি কমপ্লেক্স, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আরো অনেক
উপাদান থাকায় ইহা শরীরের শক্তি উৎপাদন বাড়ায়, যা স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে
এবং ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। তাই আপনি যদি সারাদিন কর্মশক্তি ধরে রাখতে চান
তাহলে অবশ্যই নিয়মিত পরিমিত আকারে কামরাঙ্গা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
কামরাঙ্গা আরো কয়েকটি সাধারণ উপকারিতা
কামরাঙ্গা আরো কয়েকটি সাধারণ উপকারিতা জেনে রাখা ভালো। অনেক সময় প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে, যা অনেক সময় কার্যকারী ভূমিকা পালন করে। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক আর কোন কোন উপকারিতা কামরাঙ্গা হতে পাওয়া যায়-
- কৃমিনাশক হিসেবে অনেক সময় কর্যকর ভুমিকা পালন করে।
- শীতকাল অথবা গরম কালে ঠান্ডা জনিত সমস্যা দূর করতে।
- পেটের ব্যাথা উপশম বা আরাম দিতে।
- ঘাম, কফ ও বাত-ব্যাথা দূর করতে।
- জ্বরকে কমানোর ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যবহৃত হয়।
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে।
- মূখ ও মাড়ির সমস্যা দূর করতে।
- রক্ত পরিস্কার করতে।
- পাইলস রোগীদের ক্ষেত্রে আনেক সময় নিরাময়ের কারণ হয়।
- জন্ডিস রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে।
ভিটামিন সি তে ভরপুর কামরাঙ্গার অপকারিতা
ভিটামিন সি তে ভরপুর কামরাঙ্গার অপকারিতা সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘমিয়াদি অসুস্থতায় ভুগছেন, কিডনি সমস্যায় ভুগছেন এবং গর্ভবতী নারীদের অবশ্যই কামরাঙ্গার অপকারী দিকগুলো সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক কামরাঙ্গার কয়েকটি অপকারিতা সম্পর্কে-
- আপনি যদি সাধারণ মাত্রা হতে অতিরিক্ত পরিমাণে কামরাঙ্গা খেয়ে থাকেন তাহলে অনেক সময় আপনার বদহজম হতে পারে।
- অতিরিক্ত পরিমাণে কামরাঙ্গা খেয়ে থাকলে তা কিডনির উপর প্রচুর প্রভাব ফেলে, যা অনেক সময় কিডনিকে বিকল করে দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে থাকা অক্সালিক এসিড এই কাজটি করে থাকে। এই ঘটনাটি এক থেকে দুই দিন কামরাঙ্গা বেশি খেলে হয় না। আপনি যখন দীর্ঘদিন অতিরিক্ত পরিমাণে কামরাঙ্গা খাবেন তখন অক্সালিক এসিড বৃদ্ধি পেয়ে নেফ্রোপ্যাথিতে পরিণত হয়ে কিডনিকে বিকল করে।
-
তবে আপনার যদি কিডনির সামান্য সমস্যা থেকে থাকে তাহলে অল্পতেই কিডনি বিকল
হওয়ার মত ঘটনাটি করতে পারে।
- এই ফলটির মধ্যে থাকা ক্যারাম্বক্সিন উপাদানের কারণে কিডনি রোগীরা অনেক সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
কামরাঙ্গার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য
কামরাঙ্গার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আমি একটি কথাই বলতে চাই এই ফলটি গ্রাম-বাংলায় সবার কাছে খুবই পরিচিত একটি ফল। তবে এই ফলটির গুণাগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে অনেকেই জানেনা। সেজন্য এই পোস্টে আমি ফলটি সম্পর্কে কিছুটা জানানোর চেষ্টা করেছি। এই ফলটির চাহিদা বাজারে তেমন নাই তাই উৎপাদন বাড়ানোর কোন পরামর্শ দেওয়া হয় না।
এই পোস্টে কামরাঙ্গার পরিচিতি, কামরাঙ্গার পুষ্টি গুণাগুণ এবং বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে এটি কিভাবে ভূমিকা রাখতে অথবা উপকারী হিসেবে কাজ করতে পারে তা বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনারা আমারে পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছেন। আপনার যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আমি বিশ্বাস করি আমার এই পোস্টটি কাজে লাগবে।
তবে পুষ্টিগুণ এবং উপকারিতা থাকলেই যে ইচ্ছামত এবং সবাই খেতে পারবেন তা নয়। কিছু
বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বা সময় এই ফলটি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে, যা আমি
উপরে আলোচনা করেছি। আশা করি এই পোস্টটি থেকে আপনি আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে
গেছেন। ভবিষ্যতে এই পোস্টটির আপডেট অথবা নতুন কোন পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির
হব।
সে পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন এবং মাঝে মাঝে কামরাঙ্গাকে
আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করবেন। ধন্যবাদ
সবাইকে..........
অজানা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url