পুষ্টিগুণে ভরা বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও সঠিক নিয়ম
পুষ্টিগুণে ভরা বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও সঠিক নিয়ম সম্পর্কে আপনি জানতে চাচ্ছেন। আপনার অজানা সকল প্রশ্নের উত্তর জানানোর জন্য আমি এই পোস্টটি নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি। আশাকরি পোস্টটি পড়ে আপনি আপনার সব উত্তর পেয়ে যাবেন।
এই পোস্টে আমি জানানোর চেষ্টা করব বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে। তাছাড়া এটি সঠিক নিয়মে কিভাবে সহজে ব্যবহার করা যায় সে সম্পর্কেও বলার চেষ্টা করব। আপনারা শুধুমাত্র একটু সময় নিয়ে পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বেন।
এই পোস্টে যা যা থাকছেঃ বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম
- আশ্চর্যজনক ভেষজ উদ্ভিদ বিটরুট সম্পর্কে ধারণা
- ভেষজ উদ্ভিদ বিটরুটের পুষ্টিগুণ
- বিটরুট খাওয়ার সঠিক ও সহজ নিয়ম
- আশ্চর্যজনক উদ্ভিদ বিটরুট পাওয়ার স্থান ও সময়
- ভেষজ উদ্ভিদ বিটরুট লিভার ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে
- রক্তস্বল্পতা দূর করতে বিটরুটের ভুমিকা
- ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সহায়ক হিসেবে বিটরুট
- আশ্চর্যজনক ভেষজ উদ্ভিদ বিটরুট রক্তচাপ কমাতে
- মস্তিস্কের কার্যকারিতা বাড়াতে বিটরুটের উপকারিতা
- ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে বিটরুটের কার্যকারিতা
- ক্রীয়াবিদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিটরুট
- গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে বিটরুটের উপকারিতা
- বিটরুট ত্বাকর যত্নে উপকারী হিসেবে কাজ
- হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে বিটরুটের উপকারিতা
- বিটরুট খাওয়ার অপকারিতা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম সম্পর্কে লেখকের মতামত
আশ্চর্যজনক ভেষজ উদ্ভিদ বিটরুট সম্পর্কে ধারণা
আশ্চর্যজনক ভেষজ উদ্ভিদ বিটরুট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ উদ্ভিদ, যা মূলত শাক সবজি হিসেবে পরিচিত এবং পুষ্টিগুণ ও ঔষধি গুণাবলীর জন্য ব্যাপকভাবে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি মূলত ঠান্ডা আবহাওয়ার ফসল। ইহা সাধারণত ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা হয়।
এর মধ্যে ঔষধি গুণাগুণ থাকার কারণে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে
গণনা করা হয়। বিটরুট দেখতে সাধারণত গাঢ় লাল বা বেগুনি বর্ণের হয়ে থাকে।
বেটালাইন নামক একটি প্রাকৃতিক রঞ্জক উপাদান থাকার কারণে এটি বর্ণ সাধারণত
এরকম হয়ে থাকে। এই যৌগটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ নাশক বৈশিষ্ট্যের জন্য
পরিচিত, যা শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
বিটরুটের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান, বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং ফ্যাটি অ্যাসিড বিদ্যমান থাকে। এই উদ্ভিদটি সাধারণত মানব দেহের রক্ত পরিষ্কার কাজে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এটি রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে, যা রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়ক। এছাড়াও আরো অনেক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।
ভেষজ উদ্ভিদ বিটরুটের পুষ্টিগুণ
ভেষজ উদ্ভিদ বিটরুটের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আপনাকে ব্যবহারের আগেই জেনে রাখা ভালো। পুষ্টিগুণ ও ঔষধিগুণে ভরা এই বিটরুটকে আধুনিক পুষ্টিবিদরা সুপারফুডের মর্যাদা দিয়েছেন।এটি আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতায় অবদান রাখবে। ইহা অত্যাবশক মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের একটি সম্পদ সরবরাহ করে।
কাঁচা বিটরুটে সাধারণত ৮৮% পানি থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন খনিজ উপাদান যেমন ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম থাকে। ভিটামিনের মধ্যে যেমন এ, বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৯ এবং সি থাকে। এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক বিটরুটের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ সম্পর্কে-
পুষ্টি গুণাগুণঃ
ক্রমিক নং | উপাদান | প্রতি ১০০ গ্রামের মধ্যে |
---|---|---|
১ | পানি | ৮৭.৫৮ গ্রাম |
২ | শক্তি | ৪৩.০০ গ্রাম |
৩ | প্রোটিন | ১.৬১ গ্রাম |
৪ | চর্বি | ০.১৭ গ্রাম |
৫ | শ্বেতসার | ৯.৫৬ গ্রাম |
৬ | তন্তু | ২.৮০ গ্রাম |
৭ | চিনি | ৬.৭৬ গ্রাম |
খনিজ গুণাগুণঃ
ক্রমিক নং | উপাদান | প্রতি ১০০ গ্রামের মধ্যে |
---|---|---|
১ | ক্যালসিয়াম | ১৬.০০ গ্রাম |
২ | লোহা | ০.৮০ গ্রাম |
৩ | ম্যাগনেশিয়াম | ২৩.০০ গ্রাম |
৪ | ফসফরাস | ৪০.০০ গ্রাম |
৫ | পটাশিয়াম | ৩২৫ গ্রাম |
৬ | সোডিয়াম | ৭৮.০০ গ্রাম |
৭ | দস্তা | ০.৩৫ গ্রাম |
ভিটামিন গুণাগুণঃ
ক্রমিক নং | উপাদান | প্রতি ১০০ গ্রামের মধ্যে |
---|---|---|
১ | ভিটামিন এ | ০.০২ মিলিগ্রাম |
২ | ভিটামিন বি-১ | ০.০৩১ মিলিগ্রাম |
৩ | ভিটামিন বি-২ | ০.০৪ মিলিগ্রাম |
৪ | ভিটামিন বি-৩ | ০.৩৩৪ মিলিগ্রাম |
৫ | ভিটামিন বি-৬ | ০.০৬৭ মিলিগ্রাম |
৬ | ভিটামিন বি-৯ | ১০৯ মাইক্রোগ্রাম |
৭ | ভিটামিন সি | ৪.৯০ মিলিগ্রাম |
৮ | ভিটামিন ই | ০.০৪ মিলিগ্রাম |
৯ | ভিটামিন কে | ০.২ মাইক্রোগ্রাম |
ফ্যাটি এ্যাসিড গুণাগুণঃ
ক্রমিক নং | উপাদান | প্রতি ১০০ গ্রামের মধ্যে |
---|---|---|
১ | সুসিক্ত | ০.০২৭ গ্রাম |
২ | মনো আনস্যাচুরেটেড | ০.০৩২ গ্রাম |
৩ | পলি আনস্যাচুরেটেড | ০.০৬ গ্রাম |
বিটরুট খাওয়ার সঠিক ও সহজ নিয়ম
বিটরুট খাওয়ার সঠিক ও সহজ নিয়ম সম্পর্কে আপনি নিশ্চয় জানেন না। বিটরুট একটি অত্যন্ত পুস্তিকার উপাদান যা আমি আগেই বলেছি। এটি খাওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে যা আপনার পছন্দের ও প্রয়োজনের উপর নির্ভরশীল। এখন আসুন জেনে নেয়া যাক বিটরুট খাওয়ার সঠিক কয়েকটি নিয়ম সম্পর্কে-
- বিটরুটের জুস বা রসঃ এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই এবং দ্রুত এর পুষ্টিগুণ পেতে পারেন।
- একটি ছোট্ট বিটরুট ভালোভাবে ধুয়ে, উপরের খোসাটি ছাড়িয়ে নিন, ভেতরের অংশটুকু ছোট ছোট টুকরোয় কেটে নিতে হবে। এরপর একটি ব্লেন্ডারে বা জুস মেকারের মাধ্যমে ব্লেন্ড করে জুস করতে পারেন।
- এছাড়াও আপনি এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ বিটরুট পাউডার মিশিয়ে জুস বানিয়ে পান করতে পারেন।
- এই জুসটি সাধারণত সকালে খালি পেটে পান করলে গুণাগুণ ভালো পাওয়া যায়।
- সেদ্ধ বা বেকড বিটরুটঃ এই পদ্ধতিতে বিটরুট খেলে এতে থাকা ফাইবার এবং পুষ্টি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
- প্রথমে বিটরুটকে ভালোভাবে ধুয়ে খোসাটি ছাড়িয়ে নিন এবং পরে সেদ্ধ বা বেক করুন।
- সেদ্ধ বিটরুটকে ছোট ছোট টুকরা করে সালাদের ব্যবহার করুন অথবা মিষ্টি তৈরি করতে ব্যবহার করুন।
- ওভেনে বেক করে তেল, লবণ এবং মধু দিয়ে একটু মাখিয়ে খেয়ে নিতে পারেন।
- বিটরুট স্মুদিঃ আপনারা অলরেডি জেনেছেন বিটরুটের পুষ্টি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী, আর যদিি এটি স্মুদির মধ্যে মিশিয়ে নেওয়া হয় তবে তা খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু হয়।
- প্রথমে একটি বিটরুটকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে ছোট ছোট টুকরা করে কেটে নিন।
- এরপর কলা, দই, মধু এবং কিছু বরফের টুকরো মিশিয়ে স্মুদি তৈরী করুন।
- এটি একটি শক্তি বাড়ানোর এবং পুস্তিকার খাবার হিসেবে দুপুরে খাবারে অথবা স্নেকস হিসেবে খেতে পারেন।
- বিটরুটের সালাদঃ ইচ্ছা করলে আপনি সালাদ হিসাবেও এটিকে ব্যবহার করতে পারেন।
- প্রথমে একটি বিটরুটকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে ছোট ছোট টুকরা করে কেটে নিয়ে সেদ্ধ করে নিন।
- এরপর এতে টমেটো, শসা, গাজর, পেঁয়াজ, লেবুর রস এবং নারকেল তেল মিশিয়ে নিতে পারেন।
- তবে মনে রাখবেন অবশ্যই কোল্ড প্রেস নারিকেল তেল হতে হবে, কারণ কোল্ড প্রেস নারকেল তেল সরাসরি কাচাঁ খেতে পারবেন এবং রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি চুল ও ত্বকে ব্যবহার করতে পারবেন।
- বিটরুটের স্যুপঃ আপনার যদি খেতে সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে স্যুপ বানিয়ে খেতে পারেন।
- প্রথমেই একটি বিটরুটকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে উপরের খোসা ছাড়িয়ে নিন এবং পরে তা ছোট ছোট টুকরো করুন।
- এরপর এতে গাজর, টমেটো, পেঁয়াজ, আদা, রসুন এবং অন্যান্য মসলা দিয়ে হিট দিয়ে পরিমাণ মতো তাপ দিয়ে স্যুপ তৈরি করুন। এটি সাধারণত খেতে খুব সুস্বাদু এবং শরীরের জন্য খুব উপকারী।
আশ্চর্যজনক উদ্ভিদ বিটরুট পাওয়ার স্থান ও সময়
আশ্চর্যজনক উদ্ভিদ বিটরুট পাওয়ার স্থান ও সময় সম্পর্কে আপনাকে জেনে রাখতে হবে। বর্তমানে বিটরুট বেশ সহজলভ্য একটি সবজি হিসেবে আমাদের দেশের পরিচিত হয়ে উঠছে, যা বছরের যে কোন সময় পাওয়া যায়। তবে এটি মূলত একটি শীতকালীন ফসল কিন্তু আমাদের দেশের অনেক কৃষক অধিক মুনাফা লাভের জন্য বছরের সব সময় বিভিন্ন উপায়ে এর চাষ করছে।
ফলে এখন বাজারে সব সময়ই এই আশ্চর্যজনক ভেষজ উদ্ভিদটি পাওয়া যায়। তবে বাজার থেকে বিটরুট কেনার সময় আপনাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে কারণ বর্তমানে এক ধরনের মুলাকে এই ফল নামে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য পরিচিত কোন বড় এবং ভালো দোকান হতে এটি ক্রয় করতে পারেন। এছাড়াও অনলাইনে গ্যারান্টিযুক্ত বিক্রেতার কাছে থেকে কিনতে পারেন।
ভেষজ উদ্ভিদ বিটরুট লিভার ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে
ভেষজ উদ্ভিদ বিটরুট লিভার ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে তা হয়তো আপনি নিশ্চয় জানেন। কারণ লিভারকে সুস্থতা প্রদান করতে বিটরুটের বিকল্প খুব কমই পাওয়া যায়। লিভার আমাদের শরীরের একটি অন্যতম প্রধান অঙ্গ, যা শরীরকে টক্সিনমুক্ত রাখতে এবং বিভিন্ন ক্ষতিকারক পদার্থকে প্রসাব বা পিত্তের মাধ্যমে বের করে দিতে সাহাজ্য করে।
বিটরুটে থাকা বেটাইন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিটালেইন লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এই উপাদানগুলো লিভারের কোষের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং ক্ষতিকারক টক্সিন অপসারণ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এছাড়াও লিভারে অতিরিক্ত ফ্যাট জমা হলে তা লিভারের জন্য প্রচুর ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বৈজ্ঞানিক এক গবেষণা দেখা গেছে, বিটরুট খেলে লিভারে ফ্যাট জমার পরিমাণ কমে যায় এবং ফ্যাটকে শক্তিতে রূপান্তর করে। নিয়মিত বিটরুট খাওয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার লিভার কে সুস্থ ও কার্যক্ষম রাখতে পারবেন। তাই আর দেরি না করে আজই বিটরুটকে আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করে জীবনকে সুন্দর ও সতেজ করুন।
রক্তস্বল্পতা দূর করতে বিটরুটের ভুমিকা
রক্তস্বল্পতা দূর করতে বিটরুটের ভুমিকা অতুলনীয়। সাধারণত নারীদের ক্ষেত্রে এই স্বাস্থ্য সমস্যাটি বেশি দেখা দেয়। বিটরুট আয়রন সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি করে এবং লোহিত কণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে থাকা ভিটামিন বি-৯ (ফোলেট) গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষভাবে উপকার হিসেবে কাজ করে।
কারণ এটি গর্ভস্থ শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করে। সাধারণত আপনি ক্লান্ত বা দুর্বলতায় যদি ভুগে থাকেন তাহলে আপনার জন্য বিটরুট একটি প্রাকৃতিক সমাধান। এটি রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে শরীরকে সুস্থ, সবল এবং রক্তস্বল্পতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সহায়ক হিসেবে বিটরুট
ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সহায়ক হিসেবে বিটরুট ব্যবহার করতে পারেন। এতে থাকা বিটালাইনস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে পারে। বৈজ্ঞানিক এক গবেষণায় দেখা গেছে বিটরুটের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটো- কেমিক্যাল উপাদান ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে ধীর করতে কাজ করে।
সাধারণত এটি কোলন এবং স্তন্য ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিটরুটের রস ক্যান্সার কোষের বিভাজন এবং বৃদ্ধিকে ধীরগতি করে দিতে পারে। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, এতে যে যৌগগুলি রয়েছে তা ক্যান্সারজনিত পরিবর্তনগুলোকে ব্যাহত করতে পারে। এই যৌগগুলোর জন্য বিটরুট লাল এবং হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
আশ্চর্যজনক ভেষজ উদ্ভিদ বিটরুট রক্তচাপ কমাতে
আশ্চর্যজনক ভেষজ উদ্ভিদ বিটরুট রক্তচাপ কমাতে দারুন ভূমিকা পালন করে। এ গবেষণায় দেখা গেছে যেসব ব্যক্তি প্রতিদিন বিটরুটের রস খায় তাদের হার্টের সিস্টোলিক এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করে। এটি সাধারণত বিটরুটের মধ্যে থাকাও উচ্চ নাইট্রেট উপাদানের জন্য হয়ে থাকে।
এই উপাদানটি শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড উৎপন্ন করে, যা রক্তনালীর রক্তগুলোকে শিথিল করে এবং প্রসারিত করে সমস্ত শরীরের রক্ত প্রবাহ উন্নত করে। সেজন্য অনেক চিকিৎসক উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য তারা কম খরচের উপায় হিসেবে উচ্চ-নাইট্রেট শাকসবজির মধ্যে বিটরুট খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
মস্তিস্কের কার্যকারিতা বাড়াতে বিটরুটের উপকারিতা
মস্তিস্কের কার্যকারিতা বাড়াতে বিটরুটের উপকারিতা লক্ষ্য করার মতো একটি ব্যাপার। যে কোন মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। তাই আপনি যদি নিয়মিত প্রতিদিন পরিমাণ মতো বিটরুট খেয়ে থাকেন তাহলে মস্তিষ্কের রক্ত এবং অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে।
এছাড়াও এটি আপনার স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে। বিটরুটে থাকা নাইট্রেট
মস্তিষ্কের নিউরনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমার রোগ
প্রতিরোধ করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সেজন্য বিশেষ করে বয়স্কদের
জন্য বিটরুট একটি আদর্শ এবং পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ভেষজ উদ্ভিদ।
ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে বিটরুটের কার্যকারিতা
ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে বিটরুটের কার্যকারিতা সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে, কারণ এটি একটি পুষ্টিগুণে ভরা ভেষজ উদ্ভিদ। আপনারা দেখেছেন বিটরুটে ক্যালোরি কম কিন্তু এতে ফাইবার এবং পানি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। ফলে এই উপাদানগুলি আপনার ক্ষুদা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করা কমাতে সাহায্য করে।
আপনি যদি ওজন কমানোর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খুঁজে থাকেন তাহলে আপনার জন্য বিটরুট
একটি আদর্শ খাবার হতে পারে। সাধারণত ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকার কারণে আপনার
ক্ষুধা লাগার পরিমাণ কমে যায়। এটি রস ও সালাদ হিসেবে গ্রহণ করলে, তা
দীর্ঘ সময় পেট ভরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে আপনার ক্ষুধা মন্দার সৃষ্টি হয়।
ক্রীয়াবিদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিটরুট
ক্রীয়াবিদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিটরুটের ভূমিকা আপনি জানলে অবাক হয়ে যাবেন। আপনি যদি অপেশাদার ক্রীড়াবিদ হয়ে থাকেন তাহলে খেলাধুলা করার সময় শারীরিক পরিশ্রম এবং দেহ থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়ার কারণে দেহ অবসন্ন হয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে বিটরুটের রস খেলার উৎপাদনশীলতা এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে।
বিটরুটের মধ্যে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি ও ভিটামিনগুলো খেলোয়াড়দের কর্মক্ষমতা উন্নত করে। মুখের লাল আর সংস্পর্শে এসে খাদ্যের নাইট্রেটগুলো নাইট্রেটে রূপান্তরিত হয়। এই নাটকগুলো রক্তবাহী নালীগুলোকে শিথিল করতে সাহায্য করে। এর ফলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পেলে বেশিগুলোতে অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি পায় এবং দেহের সহনশীলতাও বৃদ্ধি পায়।
গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে বিটরুটের উপকারিতা
গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে বিটরুটের উপকারিতা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন রয়েছে। বিটরুটের ফোলেট উপকারী হতে পারে গর্ভবতী মহিলাদের, কারণ এটি স্বাভাবিক লাল রক্ত কোষ এবং নির্দিষ্ট অ্যামিনো এ্যাসিডের জন্য অকার্যকর। এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, গর্ভাবস্থায় ফোলেট গ্রহণের ফলে ইহা গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে ও গর্ভের শিশুর স্নায়বিক জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি কমাতে পারে।
গর্ভকালীন সময়ে মায়ের শরীরের বিভিন্ন পুষ্টির চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যা মা ও শিশু
সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আয়রনের একটি ভালো উৎস, এতে ফলিক
এ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে, যা গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে খুবই জরুরি।
এছাড়াও এতে যেসব উপাদান রয়েছে তা শরীরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কার্যকর
ভূমিকা পালন করে। ফলে ইহা প্রতিটি গর্ভবতী নারীর জন্য একটি আদর্শ খাবার। তবে এটি
যেহেতু প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণে ভরা সেহেতু খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই ভাল
ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।
বিটরুট ত্বাকর যত্নে উপকারী হিসেবে কাজ
বিটরুট ত্বাকর যত্নে উপকারী হিসেবে কাজ করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোর্সগুলোকে পুনর্জীবিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে এবং ব্রণ ও কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। বিটরুটে ভিটামিন সি থাকার কারণে ইহা ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বককে দৃঢ় এবং মসৃণ করতে সহায়তা করে।
এছাড়াও এতে থাকা প্রোটিন ত্বকের তারুন্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তৈলাক্ত
ত্বকের জন্য বিটরুট যেমন উপকারী শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের যত্নেও বিটরুট অত্যন্ত
উপকারী। এতে থাকা প্রাকৃতিক আদ্রতা বজায় রাখার ক্ষমতা তককে গভীর থেকে
ময়েশ্চারাইজ করে এবং রুক্ষতা দূর করে। বিশেষ করে শীতকালে এর কার্যকারিতা বেশি
লক্ষ্য করা যায়।
এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ত্বকের কোষগুলোর ক্ষয়
প্রতিরোধ করে এবং তককে দীর্ঘদিন তারুণ্যদীপ্ত রাখে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে
ত্বকে বলিরেখা ও ফাইন লাইন দেখা যায় যা এই উপাদানের সহায়তায় কমানো সম্ভব। ফলে
ত্বক আরো টানটান এবং প্রাণবন্ত দেখায়।
হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে বিটরুটের উপকারিতা
হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে বিটরুটের উপকারিতা প্রচুর রয়েছে। সুস্থ জীবনধারার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ভালো হজমশক্তি। আপনার যদি হজমশক্তির সঠিকভাবে কাজ না করে তাহলে শরীরে পুষ্টি শোষণ ব্যাহত হয় এবং বিভিন্ন ধরনের পরিপাক জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপায়ে হজম শক্তি বাড়াতে বিটরুট একটি অত্যন্ত কার্যকর খাদ্য।
এর মধ্যেই আপনারা জেনেছেন এতে উচ্চমাত্রায় ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও
অন্যান্য পুষ্টিগুণ থাকে যা হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে এবং পরিপাকতন্ত্রের
কার্যকারিতা উন্নত করে। তবে অতিরিক্ত বিটরুট খেলে ডায়রিয়া বা পাকস্থলীর
অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে। সেজন্য পরিণত আকারে খাওয়াই উত্তম।
বিটরুট খাওয়ার অপকারিতা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বিটরুট খাওয়ার অপকারিতা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আপনাকে ভালোভাবে জানতে হবে। অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে আপনার দেহের অনেক উপকার হতে পারে। একটি কথা আছে “অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট”। বিটরুটের ক্ষেত্রেও এই কথাটি সত্য। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক এই সবজির কয়েকটি অপকারিতা এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া-
- এটি অত্যাধিক পরিমাণে খেলে বিটুরিয়া নামক একটি অসুখ হতে পারে, যার উপসর্গ হলো গোলাপি অথবা লাল রঙের প্রসার অথবা মল। কথাটি শুনে আপনার খুব ভয় হচ্ছে হয়তো, তবে এটি ততটা ক্ষতিকারক নয়। সাধারণত ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ইহা স্বাভাবিক হয়ে যায়।
- এই সবজিটিতে যেহেতু প্রচুর পরিমাণে অক্সালেট রয়েছে সেহেতু অত্যাধিক খেলে কিডনীতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে সিদ্ধ করলে অথবা রান্না করে খেলে অক্সালেটের পরিমাণ কমে যায়।
- আপনার যদি পেটের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আপনার পাকস্থলী খুব সংবেদনশীল। ফলে আপনি যদি বেশি পরিমাণে অথবা কাঁচা বিটরুট খেয়ে থাকেন তাহলে পেটের সমস্যা বাড়বে।
- আপনারা জানেন ইহা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে হাইপোটেনশান বা রক্তচাপ সর্বনিম্ন মাত্রা হতে আরো কমে যেতে পারে, যা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
- এর ঘন রস অথবা সরাসরি রস পান করলে গলাতে সমস্যা হতে পারে ফলে কথা বলতে অসুবিধা হয়।
- কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এলার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যা চুলকানি, ঠান্ডা লাগা এবং জ্বর হতে পারে।
- গর্ভাবস্থায় বিটরুট খেলে মাথা ঘোরা ও ক্লান্তি ভাব বেড়ে যেতে পারে।
- বিটরুটে বিদ্যমান অক্সালেট শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা প্রদান করে, যা শরীরের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করে।
বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম সম্পর্কে লেখকের মতামত
বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম সম্পর্কে আমি একটি কথা বলতে চাই এটি মানব সভ্যতার জন্য প্রকৃতির একটি আশীর্বাদ। যেই ভেষজ উদ্ভিদে প্রচুর গুণাগুণ রয়েছে। এই পোস্টে আমি আপনাদের বিদ্যুতের বিভিন্ন উপকারী দিক, পুষ্টিগুণ, কিভাবে খেতে হয়, কয়েকটি অসুবিধা বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করেছি।
আশা করি আপনারা সময় নিয়ে আমার এই পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছেন। আপনি যদি এই পোস্ট হতে একটি কথাও নতুন জেনে থাকেন তাহলে আমার এই পোস্টটি স্বার্থক হবে বলে আমি মনে করি। তবে যাদের শরীরে কোন দীর্ঘ মেয়াদী সমস্যা অথবা গর্ভবতী নারীদের অবশ্যই ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী বিটরুট খেতে হবে।
আমাদের দেশে এই উদ্ভিদের প্রচলন সেরকম লক্ষ্য করা যায় না তবে বিশ্বের অনেক দেশে
এর প্রচলন অনেক বেশি। তবে আশার কথা হলো এই যে, দিন দিন আমাদের দেশে এর
প্রচলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ এ পর্যন্তই ভবিষ্যতে এই পোষ্টের কোন আপডেট অথবা নতুন
কোন পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব।
সে পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন, বিটরুট খেয়ে নিজের শরীরকে সুস্থ
রাখবেন।ধন্যবাদ সবাইকে.......
অজানা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url